বগুড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১০

ওভারটেকিং করতে চেয়েছিলেন চালকরা: পুলিশ

বগুড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষবগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধনকুণ্ডি এলাকায় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী কোচ ও পাথরবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালকসহ ১০ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালের এই ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। পুলিশ জানিয়েছে, যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। ওই অবস্থায় ওভারটেকিং করতে গিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে।

দুর্ঘটনা কবলিত কোচ ও ট্রাক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। হেলপার ও সুপারভাইজার পালিয়ে গেছেন।

শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বগুড়ার সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান, শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল রানা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী রেখা এন্টারপ্রাইজের একটি কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-২৮১৫) শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বগুড়ার শেরপুরের ধনকুণ্ডি এলাকায় পেন্টাগন নামে একটি হোটেলের সামনে পৌঁছলে চালক শামীম হোসেন বেলাল নিয়ন্ত্রণ হারান। তখন ঢাকাগামী পাথরবোঝাই ট্রাককে (ঢাকা মেট্রো-ড-১৪-১১৬৭) সামনে থেকে বাসটি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কোচ ও ট্রাকের চালকসহ সাতজন নিহত হন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহত ১৯ জনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর সকাল ৯টার দিকে শজিমেকে দু’জন ও শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন মারা যান। শজিমেকে ১৪ জন ও শেরপুরে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

বগুড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ

নিহতরা হলেন- ট্রাকচালক টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জোড়বাড়িয়া গ্রামের মালেক উদ্দিনের ছেলে ভোলা মিয়া (৪২), কোচচালক দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার চপনঘাট গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে শামীম হোসেন বেলাল (৪০), যাত্রী দিনাজপুর শহরের বালুডাঙার নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে নাজমুল সরকার (৪০), দিনাজপুর সদরের খোদ মাধবপুর মিস্ত্রীপাড়ার মৃত আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে পারভেজ আলম (৩৫), নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেদগঞ্জের তাজবর আলীর ছেলে তজিরুল ইসলাম (৪০), বিরল উপজেলার দোগাছি গ্রামের শফি মোহাম্মদের ছেলে আবদুল হাকিম (৩৫), ঠাকুরগাঁওয়ের সলংদার গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৮), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর চৌধুরীপাড়ার খলিলুর রহমানের ছেলে বেনজির রহমান (৪৫), জয়পুরহাটের পাঁচবিবির আজিজার রহমানের ছেলে সরোয়ার রহমান (৩৫) এবং পাঁচবিবির ছাতিয়ান আলী গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন (৩৫)।


বগুড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ

আহত ক’জন হলেন-দিনাজপুরের মোখলেছুর রহমান (৫৫), বিরামপুরের আবির উদ্দিন (২৪), আব্দুল লতিফ কুদ্দুস (২৫), দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের রেজাউল আলম (৩০), দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের শাহানুর আলম (৩০), দিনাজপুর সদর উপজেলার আইয়ুব আলীর (৬০), রংপুরের পীরগঞ্জের শাহিন আলম (৩৫), রফিকুল ইসলাম (৪০), আসাদ (৩০), গাইবান্ধার সাঘাটার শফিকুল ইসলাম (৩০), এরশাদ (২৮), শফিকুল ইসলাম (৩৫), চাঁদপুরের নূর মোহাম্মদ (২৮), ঠাকুরগাঁয়ের আব্দুল লতিফ (৩০) এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের জাফর (২২)।

দুর্ঘটনার পরপরই বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার ইসরাফিল হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) গাজিউর রহমানসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। নিহতদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন-

এমপি মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে মামলা

ইউপি নির্বাচনের সহিংসতা খালের এপার-ওপারের দ্বন্দ্ব: আ. লীগ

/এফএস/এজে