তদন্তে বড় বাধা অকেজো সিসিটিভি, ১৩৯টির মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ১২৬টির

মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজগুলো সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে কার্যকারিতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে চলেছে। এর সর্বশেষ প্রমাণটি মেলে মাহমুদা খানম মিতুর হত্যাকাণ্ডের সময় পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজগুলোয়, যেখানে নজরদারির সীমানায় খুনিদের চলাফেলা চিহ্নিত করা গেলেও পুরোপুরি অস্পষ্ট থেকে গেছে তাদের চেহারা।
মিতু হত্যাকাণ্ড পরবর্তী অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজটি নগরীর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বসানো সচল সিসিটিভি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা যায়। সাম্প্রতিক তথ্যমতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোয় স্থাপিত ১৩৯টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১২৬টি ক্যামেরা সংযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে সাময়িক অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। কেন সিংহভাগ সিসিটিভি অকেজো- এর ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে ১৩টি সিসিটিভি বাদে অবশিষ্টগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে।

কথা হয় চট্টগ্রামে মেট্রোপলিটান পুলিশের অধীনে নগরময় সিসিটিভি স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কম্যুনিকেশন লিমিটেডের পরিচালক শ্যামল কুমার পালিতের সঙ্গে। তিনি বলেন, নগরীর জিইসি মোড়ে চারটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আরও চারটি বসানো হয়েছে প্রবর্তক মোড়ে। খুনিরা হত্যাকাণ্ডের পর প্রবর্তক মোড় ধরে পালিয়ে যায়। দু’টি মোড়ের আটটি ক্যামেরা যদি নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকতো, খুনিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হতো অতি সহজে।  

অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল হক একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, সিসিটিভি অপরাধ তৎপরতায় একধরনের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। যখন সিসিটিভি কার্যকর থাকে, অপরাধীরা অপরাধকাণ্ড ঘটাতে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হয়। সিসিটিভির উন্নত মানের ফুটেজ মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশকে বড় ধরনের সহায়তা দিতে পারতো। বাণিজ্যিক এলাকা, বিপণি ভবন, আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা সিসিটিভিগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ।

পালিয়ে যাচ্ছে তিন ‘হত্যাকারী’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ নিয়ে সিটি মেয়রের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সিসিটিভিগুলো পনুরায় নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

সিএমপির বিশেষ সূত্র জানান, দেড় বছর আগে নগরীর ষাট লাখ মানুষের নিরাপত্তাবিধানে গোটা শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এই উদ্যোগের আওতায় তিন ধরনের ১৩৯টি ক্যামেরা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অংশে বসানো হয়। ক্যামেরার ধরনগুলো হলো: প্যান টিল্ট জুম, ফেইস ডিটেক্টর ও ১২০০ টিবিএল।

জানা যায়, সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার থাকাকালে এসব সিসিটিভি স্থাপনকাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে স্কুলগামী সন্তানের সামনে ছুরিকাঘাতের পর গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে ৬ মাসে তিন ভিন্ন মতাবলম্বী খুন, তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

/এইচকে/