পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মৃত্যুদণ্ডপঞ্চগড়ে স্ত্রী সোনালী রানী শম্পাকে (২৪) হত্যার দায়ে স্বামী নিমাই চন্দ্র রায়কে (৩১) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ নূর এ রায় দেন।

এছাড়া সুনিদিষ্ট স্বাক্ষী প্রমাণ না থাকায় চার্জশিটভুক্ত আসামি নিমাইয়ের বাবা অনিল চন্দ্র, মা রমা বালা, বোন বিউটি রানীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার গ্রামের করুনা কান্ত রায়ের কন্যা সোনালী রানী শম্পার সঙ্গে ২০০৮ সালের ১৩ আগস্ট আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বারো আউলিয়া গ্রামের অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে নিমাই চন্দ্র রায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই শম্পাকে নির্যাতন করতো নিমাই চন্দ্র। ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর একই কারণে নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর গলায় রশি দিয়ে একটি আম গাছে ঝুলিয়ে রাখে নিমাই। এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর শম্পার বাবা করুনা কান্ত রায় বাদী হয়ে আটোয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী-শশুর-শ্বাশুড়িসহ ৬ জনের নামে মামলা করেন। আটোয়ারী থানার এস আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিলীপ কুমার রায় ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ নিমাই চন্দ্র রায়সহ ৪ জনের নামে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। পরে ৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান সুজা ও অ্যাডভোকেট বলরাম গুহ ঠাকুরতা মামলাটি করেন।

শম্পার বাবা করুনা কান্ত রায় আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আদালত আসামির মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

/এসএনএইচ/