বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ উপেক্ষিত

সারিয়াকান্দির খাদ্য গুদামে প্রভাবশালীদের নিয়ে আসা ধানবগুড়ার সারিয়াকান্দির সরকারি গুদামে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক হিসাব থাকা এবং ভর্তুকি অনুদানপ্রাপ্ত কৃষকদের কাছে সরাসরি ধান কেনার কথা থাকলেও প্রভাবশালী কালোবাজারিরা কৃষকের কৃষিকার্ড, আইডি কার্ড ও ব্যাংক হিসাব হাতিয়ে নিয়ে ধান দিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের বঞ্চিত করে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অন্য জেলা থেকে আনা ধান গুদামজাত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কৃষকদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিলেও তারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস ও খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ৯২০ টাকা মণ দরে বগুড়ার ১২ উপজেলায় এবার ৪০ হাজার ৬১৪ টন ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ১২ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলায় ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে,২ হাজার ২৮০ টন। উপজেলা খাদ্য গুদামে সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৬০০ টন ধান।
আরও পড়তে পারেন: হাজার হাজার মানুষের চোখের পানিতে বিদায় নিলেন আজাদ চেয়ারম্যান
এদিকে, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ মূল্য বেশি হওয়ায় বেশি মুনাফা লাভের আশায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এদের দাপটে সাধারণ কৃষকেরা ক্রয় কেন্দ্রে যেতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চিহ্নিত কালোবাজারিরা যারা টেস্ট রিলিফ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের চাল ও গম কেনেন তারাই সাধারণ কৃষকের কৃষি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি যে কৃষকের ব্যাংক হিসাব নেই তাকে না জানিয়েই তার নামে ব্যাংক হিসাব খুলে লেনদেন করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে সরেজমিন সারিয়াকান্দি খাদ্য গুদামে গেলে কথা হয় উপজেলার নারচী ইউনিয়নের নেওরগাছা গ্রামের কৃষক এমদাদুল ফকির, জিন্নাহ মিয়া এবং কাজলার পাকুরিয়া চরের কৃষক লিটন সরকারের সঙ্গে। তারা বলেন, গুদামে ধান কেনা হচ্ছে তা তারা জানতে পারেননি। দু’দিন ধরে দুই টন ধান গুদামে এনেছেন, কিন্তু তাদের সে ধান নেওয়া হয়নি।

 ফুলবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ব্যবসায়ীদের ধান গুদামে নিয়ে চলে যান। প্রকৃত কৃষকেরা ধান নিয়ে গেলে তাদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। প্রখর রোদে ঘণ্টা পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ধান দিতে পারছেন না। হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবরুর বাড়ি গ্রামের কৃষি কার্ডধারী (নং-৬৭১) ও তালিকাভুক্ত কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান,তারা ধান চাষ করলেও তালিকায় তাদের নাম আছে কিনা তা জানা নেই। নারচী ইউনিয়নের চরহরিনা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা গুদামে ধান দেওয়ার কথা বলে কৃষি অফিসের তালিকায় তার নাম দিয়েছেন। উপজেলা সদরের প্রবীণ ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম জানান, এভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্য ও কৃষকদের হয়রানি করে ধান সংগ্রহ করা ঠিক নয়।
আরও পড়তে পারেন: জাসদ এখন আ. লীগের লেজ: সৈয়দ আশরাফ

 এ ব্যাপারে খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি ওবায়দুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এ উপজেলায় কৃষকের সংখ্যা বেশি। বেশি প্রচারণা চালালে একসঙ্গে অনেক কৃষক ধান নিয়ে আসেন। এতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। তাই প্রচারণা কম চালানো হচ্ছে। তিনি কালোবাজারীদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা অস্বীকার করেন।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা একেএম আসাদুজ্জামান বলেন,কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। তিনিও কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে না পারা কৃষকেরা বলেন, শুধু সরকারি নির্দেশনা জারি করলেই চলবে না; মনিটরিং করতে হবে। তা নাহলে সরকারের এ মহৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে এবং গুদামে ধান দিতে না পেরে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পরবর্তীতে তারা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

 /এমএসএম/