স্থানীয়রা জানান, সেতুর পশ্চিম অংশে প্রথম অবস্থায় বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছিল। ফাটল ঢাকতে পাথর বালি ব্লকের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছিল বাঁশ ও কাদামাটি। সেই ফাটল সংলগ্ন জায়গায় আবারও দেখা দিয়েছে বড় আকারের ফাটল। সড়ক নির্মাণের সময় দুই পাশ থেকে ব্যাপক পরিমাণে মাটি কাটা হয়। এজন্য সড়কের ফাটল বন্ধ করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রথম ফাটলে পাথর বালি ব্লকের পরিবর্তে বাঁশ ও কাদামাটি দেওয়ার ফলে একের পর এক ফাটল দেখা দিচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ফাটল আরও বড় আকার ধারণ করছে। ধসে পড়ছে মাটি। ফলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম কনস্ট্রাকশন ফার্মের ম্যানেজার উজ্জ্বল হোসেন জানান,‘সেতু নির্মাণ করা হয়েছে ভুল নকশায়। সেতুটি পশ্চিম দিকে আরও বাড়ানো হলে এমন ফাটল দেখা দিতো না। কোনোভাবেই এ ফাটল বন্ধ করা সম্ভব না।’
সংযোগ সড়ক দেখাভালের দায়িত্বে থাকা তানোর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রেজাউন নবী জানান, ‘৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে প্রকল্প বাতিল হবে।’
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘সংযোগ সড়কটি দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণ করছে জেলা এলজিইডি বা এক্সচেঞ্জ অফিস। আমার তেমন কিছু করার নেই।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজশাহীর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, এলজিইডি ঢাকা অফিস থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) ওই সেতু এবং সংযোগ সড়কটি পরিদর্শন করে গেছেন। প্রতিনিধি দল প্রকল্পটির ডিজাইন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর তানোর ও মোহনপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে শিব নদীর উপর ২১৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতুটি নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০১২ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালে প্রায় এক দশমিক ৪৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ঠিকাদারি কার্যাদেশ পায় মেসার্স ফরিদ কনস্ট্রাকশন। মেসার্স ফরিদ কনস্ট্রাকশন টেন্ডার পেলেও কাজ করছে ছয়টি সংস্থা মিলে। এর মধ্যে রয়েছে রাকা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সালাম কনস্ট্রাকশন, ডন এন্টারপ্রাইজ।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে সংযোগ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ও কাদামাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণ করায় পর পর দুইবার তা ভেঙে যায়। ফলে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এদিকে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফের নিম্নমানের সামগ্রী ও কাদামাটি দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে।
এপিএইচ/