এদিকে, উপকার ভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মানব মুক্তি সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন সারভাইবারস নেটওয়ার্ক ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড বেটার এনক্লুশন (এসএনপিডিআই)’র প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী নুর মোহাম্মদকে গত বৃহস্পতিবার রাতে আটক করা হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেলার রায়গঞ্জের ধানগড়ার তেলিজানা গ্রামের রেজাউল ইসলামের এসিড দগ্ধ প্রতিবন্ধী স্ত্রী লালু বানুসহ বেশ ক’জন উপকারভোগীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মানব মুক্তি সংস্থা দাতা সংস্থা থেকে দেওয়া প্রায় ৩ লাখ টাকার মানবিক সাহায্যের চেক আমাদের ২২ জনকে দেয়। জনসমক্ষে ঘটা করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডিসি-এসপি’র হাত দিয়ে ওই চেক বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের ডেকে নিয়ে চেকগুলো কৌশলে ভাঙ্গিয়ে বিকেলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত টাকা কেটে রাখে। বিষয়টি ব্রাকের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানানোর পর পুলিশ সমন্বয়কারী নুর মোহাম্মদকে আটক করে।
সদর থানার উপ-পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম জানান, এসিড দগ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের অনুদানের আত্মসাতের সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করার পর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ ও জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, মানব মুক্তি সংস্থার সমন্বয়কারী নুর মোহাম্মদ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনালী ব্যাংক কোর্ট শাখা থেকে নিজেই ২২টি স্লিপের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক কোর্ট শাখা থেকে ২২ জন এসিড দগ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের অনুদানের টাকা তোলে। পরে তা উপকারভোগীদের মধ্যে যথাযথভাবে বন্টণ না করে বেশ কিছু অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সোনালী ব্যাংক সিরাজগঞ্জ কোর্ট শাখার ব্যবস্থাপক খালেদ মাহমুদ বলেন, তার ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ভুলবশত ঠিকমতো পরীক্ষা না করায় মানব মুক্তি সংস্থার ওই সমন্বয়কারী নিজে একাই এভাবে টাকা উত্তোলনের সুযোগ পায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ওই কর্মকতার বিরুদ্ধেও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে রির্পোট করা হবে।
দাতা সংস্থা ইউনিসেফ’র অর্র্থায়নে এসিড সারভাইবারস প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়নে ২০০৯ সাল থেকে সারভাইবরস নেটওয়ার্ক ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড বেটার এনক্লুশন (এসএনপিডিআই) প্রকল্পটি শুরু হয়। চলতি বছরের মে মাসে এটির মেয়াদ শেষ হয়। স্থানীয় এনজিও সংস্থা মানব মুক্তির মাধ্যমে সিরাজগঞ্জে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।
/এসএনএইচ