মামলায় অপর দুই আসামি হলেন, রাজশাহীর তানোর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর মান্নান এবং ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মশিউর রহমান। তারা পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে সারা দেশের মতো সরকার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার গরীব ও দুস্থদের মাঝে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার তানোর পৌরসভা কার্যালয়ে ৩টি বুথের মাধ্যমে পৌর এলাকার ১ হাজার ৫৪০ জনের মধ্যে ২০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। তানোর পৌরসভায় ভিজিএফ চাল বিতরণে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বরত অফিসার হিসেবে ১টি বুথে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার শামীমা শারমিন।এসময় অন্য ২টি বুথে চাল কম পেয়ে ভুক্তভোগীরা ট্যাগ অফিসারকে অভিযোগ করেন। সমাজ সেবা অফিসার চাল কম দেওয়ার বিষয়টি তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদকে জানান। খবর পেয়ে নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ বেলা ১টার দিকে তানোর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, তানোর খাদ্য গুদাম (এলএসডি,) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), তানোর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুস সবুরসহ পুলিশ ফোর্স নিয়ে তানোর পৌর কার্যালয়ে চাল বিতরণস্থলে হাজির হন। সেখানে দেখা যায় ওজন ছাড়াই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এসময় বিতরণকৃত ভিজিএফ চালগুলো পুনরায় ওজন করে ২০ কেজির পরিবর্তে (ভিজিএফ কাটধারী) বেগম আরার বস্তায় ৯ কেজি ৬৫০ গ্রাম, আলেকজানের বস্তায় ৯ কেজি ৮০০গ্রাম, আমোলীর বস্তায় ৭কেজি ৬১৫গ্রাম, রাহেলা কুঠিপাড়া ১৬ কেজি ৯৭ গ্রাম, মফিজের বস্তায় ১৭ কেজি ৮৭গ্রাম চাল পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ মেয়র মিজানুর রহমান মিজানকে আটকের নির্দেশ দিলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী তানোর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার শামীমা শারমিন জানান, চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি মেয়রকে জানিয়ে কোনও প্রতিকার না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে সত্যতা পেয়েছেন।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, তানোর পৌর এলাকার দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ চাল ২০ কেজি না দিয়ে কম দেওয়া হচ্ছে, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার বিষয়টি মোবাইলে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ার পর মেয়র মিজানকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আটকের পর থানায় সাংবাদিকদের সামনে তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমি সবাইকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। সকালে আমি কয়েকজনকে ২০ কেজি করে চাল দিয়ে উদ্বোধন করে অফিস রুমে কাজ করছিলাম। কাউন্সিলররা ওজনে কম দিয়েছেন। আমিও চাই প্রতিজন ২০ কেজি করে চাল পাক। আমাকে হয়রানি করতে এ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা আব্দুস সালাম বলেন, এ ঘটনায় তানোর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার বাদী হয়ে মেয়র মিজানসহ ২ কাউন্সিলরকে আসামি করে তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মেয়রকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
/এআর/এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
বাবুল আক্তারের বিষয়ে চুপ পুলিশ কর্মকর্তারা