ফাহিমের বন্ধু আকাশ বলেন, পাখি ধরা ওর দারুন নেশা ছিল। ঘটনার দিন বাড়ি থেকে একটি আম হাতে নিয়ে দুই তিনজন বন্ধুর সঙ্গে কুশখালি বিজিবি ক্যাম্পের ধারে পাখি ধরতে গিয়েছিল ফাহিম। কিন্তু বিজিবির বাধার মুখে পারেনি। সেখান থেকে এসে মাঠে খেলা করছিলাম। মাঠ থেকে ফাহিমকে জোরকরে ধরে নিয়ে যায় ইব্রাহিম ও ইসরাফিল। এর একদিন পর ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার হয় কুশখালি সীমান্তের একটি পাটক্ষেত থেকে।
বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কুশখালি থেকে ফাহিম হত্যার বিচার দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসেছিলেন শিশু ফাহিমের নানা হাজী মোহাম্মদ আলি, মা ফয়জুননাহার ও খালা শামসুননাহার। এ সময় তারা সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ এ পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
তারা আরও বলেন, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন তিনি অন্য আসামিদের খুঁজে পাচ্ছেন না। কিন্তু অন্যান্য আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ফাহিমের স্বজনরা আরও জানান, হত্যার পর থেকে তারা অনেকটাই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। একটি মহল বিষয়টি মীমাংসা করতে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করছি।
ফাহিমের মা অভিযোগ করে বলেন, নৃশংস এই হত্যার নেপথ্য নায়ক সফুরার স্বামী মুজিবর রহমান পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি।
ফাহিমের স্বজনরা জানান, ওই বাড়ির গৃহবধূ তামান্না খাতুন হত্যার রহস্য উন্মোচন করে দেওয়ায় ঘাতকরা ক্ষিপ্ত। তারা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তামান্না বাপের বাড়িতে চলে গেছেন। সেখানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ফাহিম হত্যা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘রিমান্ডে নিয়ে তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, তিন আসামিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী সীমান্ত সংলগ্ন একটি পাট ক্ষেত থেকে শিশু ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহিম সদর উপজেলার মৃগিডাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুল ইসলামের ছেলে। মায়ের সঙ্গে সে কুশখালী গ্রামে নানা হাজী মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে থাকতো।
ঘটনার কয়েকদিন পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচিত হলে জানা যায়, মাত্র এক কেজি মাংসের কারণে শিশু ফাহিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করে খুনিরা। এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. সিদ্দিক বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম তিনজনকে আটক করেন।
ফাহিম হত্যা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কয়েকটি নিউজের লিংক: