লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও হামহাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ও শমশেরনগর গলফ মাঠ, বধ্যভূমি-৭১, পর্যটন স্পটগুলোতে বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকলেও দেশি পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে।
জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরের পর থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্যে অপূর্ব রূপ ধারণ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর চা বাগান হ্রদ, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী গভীর বনের হাম হাম জলপ্রপাত, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, খাসিয়া পুঞ্জি ও সবুজ গালিচায় ভরা চা বাগান, শমশেরনগর চা বাগানের ভিতরের গলফ মাঠ, শ্রীমঙ্গলের বধ্যভূমি-৭১, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, সিতেশ রঞ্জণের মিনি চিড়িয়াখানাসহ প্রভৃতি দর্শনীয় স্থানগুলো। আর ছুটিতে এসব জায়গা ছিল পর্যটকে মুখরিত।
পর্যটকরা বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি দেখার আগ্রহটা ছিল আলাদা অনুভূতির। কিন্তু লাউয়াছড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও কোনও প্রাণির দেখা মেলেনি।
লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিসংখ্যান অনুয়ারী ঈদের দিন থেকে রবিবার পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার পর্যটক শুধুমাত্র লাউয়াছড়া উদ্যান ভ্রমণ করেছেন।
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, বনের একটি নির্দিষ্ট স্থানকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়েছে। এই বনে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী আছে। এটাকে উদ্যান ঘোষণার পর থেকেই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার সংগ্রহ, আবাসস্থলে আশ্রয় গ্রহণ সবকিছুই আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, অধিক পর্যটকের হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার, মাইকের শব্দ, গাড়ির হর্ন সব মিলিয়ে জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছে। ফলে অধিক পর্যটকের তৎপরতা বন্যপ্রাণীর বাস উপযোগী পরিবেশ হারাতে বসেছে।
এদিকে পর্যটকদের ভিড় সামাল দিতে জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সব সদস্য ও লাউয়াছড়ায় নিয়োজিত ট্যুর গাইডরা ব্যস্ত।
লাউয়াছড়া ট্যুর গাইড আহাদ মিয়া বলেন, চলতি মাস থেকে বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি খুবই কম। এ পর্যন্ত ১০/১৫ জন বিদেশি পর্যটক লাউয়াছড়ায় এসেছেন। এখনও তারা অবস্থান করছেন। আমরা পর্যটন পুলিশ নিয়ে তাদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকি। তবে পুলিশ সঙ্গে থাকলে তারা অস্বস্তিবোধ করেন।
একই কথা জানান, ট্যুর অপারেটর রিজভী আহমদ ও ইউসুফ আলী।
লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) রেজাউল করিম বলেন, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থায় টহলে ছিল পর্যটক সহায়ক পুলিশ সদস্যরা।
মৌলভীবাজার পর্যটন সহায়ক পুলিশের শ্রীমঙ্গলস্থ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এ.কে.এম. মোশারফ হোসেন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পর্যটন সহায়ক পুলিশের ফোর্স ছিল। তাছাড়া সাদা পোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করেছেন।
/এসএনএইচ/টিএন/