ঈদের তিনদিনে ২২ রোগীর মৃত্যু

শেবাচিমে ‘গণহারে’ অসুস্থ রোগীদের নাম কেটে দেওয়ার অভিযোগ

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) অসুস্থ রোগীদের নাম কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদের আগে-পরের তিনদিনে রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে অসুস্থ ৪১২ জন রোগীর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে এ সরকারি হাসপাতালে।

এদিকে, চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ এনে ঈদের ৩ দিনে সরকারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ত্যাগ করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৫ জন রোগী। এছাড়া, হাসপাতালেই চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকার পরও ‘উন্নত’ চিকিৎসার নামে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আরও ৩৫ জন রোগীকে।

শেরে-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়

জানা গেছে, এ বছর ঈদের আগে-পরের ৩ দিনে হাসপাতালে মারা গেছে ২২ জন রোগী। এর মধ্যে ৬ জন শিশু। এছাড়া কোনও সিনিয়র বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও ছুটির সময়ে হাসপাতালে রোগী দেখতে আসেননি। ইনডোর অপারেশন থিয়েটারেও অপারেশন হয়েছে ঢিমেতালে। শোবাচিমের ৭২৪ চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীর মধ্যে এবার ৫০৮ জনই ঈদে ছুটি কাটিয়েছেন। ফলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হয়েছে।

রোগীর স্বজন সিরাজুল হক অভিযোগ করেন, ঈদের আগে-পরের ৩ দিন যেসব রোগীর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে, তাদের বেশীরভাগই সুস্থ নন। চিকিৎসক সংকটের অজুহাতে তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঈদের বন্ধে চিকিৎসা সেবায় কোনও সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন শের-ই বাংলা মেডিক্যালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সেজন্য আমি সার্বক্ষণিক তদারকি করেছি। ৩ দিনে ৪১২ জন রোগীর নাম কেটে দেওয়া অস্বাভাবিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই (ঈদের আগের দিন) শের-ই বাংলা মেডিক্যালে রোগী ভর্তি ছিলো ৮৪৩ জন। এদের মধ্যে ২ শিশুসহ ৬ জন মারা গেছে। চিকিৎসা না পেয়ে স্বেচ্ছায় হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে চলে গেছেন ১৩ জন রোগী। উন্নত চিকিৎসার নামে এখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ৭ জন রোগীকে। ওইদিনই নাম কেটে দেওয়া হয়েছে ১১৮ জন রোগীর।

ঈদের দিন (৭ জুলাই) শের-ই বাংলা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮৪৪ জন রোগী। এদের মধ্যে মারা গেছে দুই শিশুসহ ১২ জন। চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে ১৫ রোগী। উন্নত চিকিৎসার নামে ঈদের দিন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ১৪ জন রোগীকে। এদিন হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে সর্বাধিক ১৮৪জন রোগীর।

ঈদের পরদিন (৮ জুলাই) শের-ই বাংলা মেডিক্যালে রোগী ভর্তি ছিল ৯২৮ জন। এ দিন ২ শিশুসহ মারা গেছে ৪ জন। চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে গেছেন ১৭ জন রোগী। উন্নত চিকিৎসার নামে ১৪ জন রোগী পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। ঈদের পর দিন হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে ১১০ জন রোগীর।

/এমও/টিএন/

আরও পড়ুন:

ফেসবুকে এখনও নিয়ন্ত্রণহীন সব ‘জিহাদি পেজ’

সংবাদমাধ্যম আমার বক্তব্য বিকৃতভাবে ব্যবহার করেছে: জাকির নায়েক

নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, স্বামীসহ গ্রেফতার

প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
হলি আর্টিজান থেকে উদ্ধার হওয়া সবাই নজরদারিতে