মহানগরীর দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আনোয়ার হোসেন বলেন, দুপুরে জেলা প্রশাসকের নিদের্শনা অনুযায়ী মা ও মেয়ে দৌলতপুর থানায় আসেন। কিন্তু তারা নিজেরাই পুলিশের নির্দেশনা মেনে নিজ বাড়িতে অবস্থান নিতে আগ্রহী হননি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ছাড়া তারা নিজ বাড়িতে উঠবেন না জানিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মা মমতাজ বেগম জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দৌলতপুর থানায় যাওয়ার পর ওসি জানান, পুলিশের সহযোগিতায় তাকে বাড়িতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে কোনও সমস্যা হলে তার দায় পুলিশ নেবে না। পাশাপাশি এলাকায় থাকতে হলে সাজা হওয়া বখাটে ছেলেটির সঙ্গেই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
এর আগে, বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় জীবন রক্ষায় মা-মেয়ের খুলনা প্রেসক্লাবে অবস্থান নেওয়ার খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে খুলনা জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, ইভটিজিংয়ের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বখাটেকে ৬ মাসের জেল দেওয়ার পর মেয়েটির ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। পরে জেলা প্রশাসক খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কর্মীরা ভুক্তভোগী মা-মেয়েকে দৌলতপুর থানায় পৌঁছে দেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর মা ও মেয়েকে দৌলতপুর নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পুলিশের সন্তোষজনক ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে মা ও মেয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ বাড়িতে উঠতে সাহস পাননি। তারা এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আবারও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়তে পারেন: বখাটেদের হাত থেকে বাঁচতে প্রেসক্লাবে আশ্রয়
আরও পড়তে পারেন: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিপদসীমার ওপরে ব্রহ্মপুত্র
/এমও/এমএসএম/