কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার অভিযোগ গঠনের ধার্য্য তারিখে শুনানি শেষে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক এ. জি. এম. আল মাসুদ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
তবে শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসময় তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পনেরো আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটার পরবর্তী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তিনি নির্বাচনি বক্তৃতায় তুলে ধরেন। ইতিহাসের সত্য তুলে ধরা তার ওই নির্বাচনি বক্তৃতায় রাষ্ট্র কিংবা রাষ্ট্রপতিকে কোনোভাবেই কটাক্ষ করা হয়নি। এর আগে দলীয় নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে ফজলুর রহমান আদালতে হাজিরা দিতে আসেন।
২০১৪ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ১৯ মার্চ রাতে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম কামাল হোসেনের এক নির্বাচনি পথসভায় ফজলুর রহমান বক্তৃতা করেন। ওই বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিএনপির এই নেতা কুরুচিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক কথা বলেছেন এমন অভিযোগ করে মো. আলী হোসেন নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ সমর্থক তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ইটনা থানায় একটি জিডি (নং-৫১১, তাং-১৯/০৩/১৪) করেন। ওই বছরের ১৮ আগস্ট পুলিশ এটিকে নন এফআইআর মামলা হিসেবে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
মেয়ের ভর্তি এবং নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে ফজলুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় ওই বছরের ২৭ আগস্ট কিশোরগঞ্জের ৪নং আমলি আদালতের বিচারক ও তৎকালীন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী মামলাটি আমলে নিয়ে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। পরে ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের এ নির্দেশের ওপর ঊর্ধ্বতন চেম্বার জজ স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৬ই নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগের আদেশের পর ফজলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন। মামলাটি কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে স্থানান্তর করা হলে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন প্রার্থনা করেন। তবে আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর তিনি মুক্তি পান।
/টিএন/
আরও পড়ুন:
ফেসবুকে এখনও নিয়ন্ত্রণহীন সব ‘জিহাদি পেজ’
সংবাদমাধ্যম আমার বক্তব্য বিকৃতভাবে ব্যবহার করেছে: জাকির নায়েক
নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, স্বামীসহ গ্রেফতার
প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
হলি আর্টিজান থেকে উদ্ধার হওয়া সবাই নজরদারিতে