এক বছর ধরে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র রবিন

মানিকগঞ্জে নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র রবিন
এক বছরেও সন্ধান মেলেনি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র মো. রবিনের। ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ বিকালে বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশে বের হয় রবিন। এরপর থেকে সে নিখোঁজ।

রবিন ওই গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেনের ছেলে। নিখোঁজের ছয়দিন পর রবিনের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জহিরুল ইসলাম ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।

জহিরুল আরও জানান, গত বছরের ১৫ মার্চ মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বাসে রবিনকে উঠিয়ে দেন তিনি। কিন্তু রবিন আর বাড়ি ফেলেনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় রবিন মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি।  

জহিরুল অভিযোগ করেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রবিনের নিখোঁজের বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থেকে কোনও আন্তরিকতা পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় ওই বছরের ২১ মার্চ শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তিনি বলেন, যখন রবিন নিখোঁজ হয় তখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। ভাইকে না পাওয়ায় পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন, বিষন্ন।  এক বছর ধরে রবিনকে পাওয়া না গেলেও পরিবারের বিশ্বাস সে এখনও বেঁচে আছে। রবিনের নিখোঁজের পেছনে কোনও জঙ্গি কানেকশন আছে কিনা তার জবাবে বড় ভাই জহিরুলের সাফ জবাব ‘না’।

তিনি বলেন, রবিন লেখাপড়ায় অমনোযোগী আর ভীষণ জেদি ছিল। পরিবারের ধারণা তাকে অপহরণ করা হয়েছে কিংবা অভিমান করে সে কোথাও আত্মগোপনে আছে।

তিন ভাই আর এক বোনের মধ্যে রবিন তৃতীয়। পার্শ্ববর্তী ঘিওর উপজেলার দোতরা এলাকার মার্কাজুল কোরান ওয়াল উল্লুমীর শাহরিয়া মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো সে।

মাদ্রাসা ছাত্র রবিন নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকির হাসান।

এদিকে, শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, মাদ্রাসা ছাত্র রবিনকে এক বছর ধরে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে গত বছরের ২১ মার্চ তার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ইতোমধ্যে নিখোঁজ রবিনের সন্ধান পেতে বাংলাদেশের সব থানায় ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে তথ্য পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন- 

জঙ্গি হামলাকারীরা নিঃসন্দেহে দোজখের আগুনে পুড়বে: প্রধানমন্ত্রী
নিখোঁজের খবরগুলো আমলে নিত না আ. লীগও

/বিটি/এফএস/