শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে তিন মামলার আবেদন, ২টি খারিজ

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তনারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যাণদী এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলার আবেদন করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি মামলাই খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরীফের আদালতে তিনটি মামলার আবেদন করা হয়। পরে বিকেলে দুটি মামলা খারিজসহ অন্য একটি মামলার আদেশের জন্য আগামী ১৬ জলাই দিন ধার্য করেন বিচারক।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন বলেন,ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত,শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধর ও শিক্ষিকা নিয়োগে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলার আবেদন করা হয়। যেহেতু উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিষয়টি তদন্তাধীন, সেহেতু আদালত ২০৩ ধারা অনুযায়ী শিক্ষার্থী রিফাতের মা রিনা বেগম ও সামছুল হক সামছুল মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। অন্য মামলার আদেশ শনিবার দেওয়া হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে,প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে গত ৮ মে ও ১৩ মে ছাত্র রিফাত হাসানকে মারধরের অভিযোগে মামলাটির (নম্বর ১১০/১৬) আবেদন করেন রিফাত হাসানের মা রিনা বেগম।

অন্য মামলায় বন্দর কল্যাণদী এলাকার সামছুল হক সামছু বাদী হয়ে শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ করেন (নম্বর ১১১/১৬)। অন্য মামলাটির আবেদন করেন বন্দর উপজেলার কল্যাণদী এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগম।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান জানান,মোর্শেদা বেগমকে এমপিওভুক্ত করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত দুই দফায় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে এমপিওভুক্ত করতে তিনি কোনও সহায়তা করেননি।

এর আগে গত রবিবার (১০ জুলাই) দুই মাস পর কর্মস্থলে যোগদান শেষে শারীরিক অসুস্থতার (চোখের সমস্যা) জন্য সাতদিনের ছুটির আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত ছুটি মঞ্জুর করেন স্কুলটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ এনে স্কুল কমিটির লোকজন ও স্থানীয় জনগণ প্রথমে মারপিট করেন। পরে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান কান ধরে ওঠবস করান।

তবে এ বিষয়ে লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষকের প্রাণ বাঁচাতে এ কাজ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন তিনি।

পরে ওই রাতেই শ্যামল কান্তি ভক্তকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরদিন শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. শফিউল আজমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ মে পুলিশের পাহারায় শ্যামল কান্তি ভক্তকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ দেওয়ার পর ওইদিন বিকেলেই তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর খানপুরে মোকরবা সড়কের বাসায় ওঠেন। সেই থেকে শ্যামল কান্তি ভক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রয়েছেন।

বিটি/এবি/আপ-এসএনএইচ/