সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশনা আসার পর বান্দরবানে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকা হিসাবে নিরাপদে ঘাঁটি গাড়তে পারে এই আশঙ্কা থেকে বান্দরবান মিয়ানমার সীমান্তে বিজিপির নজরদারি বৃদ্ধি, শহরের বিভিন্নস্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামরা স্থাপন, চেকপোস্টে তল্লাশি ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বান্দরবান জেলা শহরের ৯টি ওয়ার্ডে মাত্র ৮টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে জেলার অধিকাংশ হোটেল মোটেল ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও বিহারে এখনও ক্লোজ সার্কিট ক্যামরা বসানো হয়নি।
আর এ আশঙ্কায় পুলিশ স্থানীয় ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করলেওঅনেক পৌর এলাকায় ভবন মালিকরা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। ফলে জেলা সদরে ৪শ’ ভাড়াটিয়ার তথ্য জমা পড়েছে সদর থানায়। জেলার জেলা শহরের বনরুপা এলাকার ভাড়াটিয়া তপন চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার কাছে বাড়ির মালিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। আর মালিককে বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগাতে বলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারির উপর চাকপাড়া বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ মং শু উ চাককে, ৩০ জুন আওয়ামী লীগ নেতা মংসা নু মার্মাকে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। ফলে বান্দরবানে একের পর এক হত্যার কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনায় স্থানীয় ভাড়াটিয়ার তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং অপরিচিত মানুষের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের দুই শসস্ত্র গ্রুপ ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), মিয়ানমারের বিদ্রোহী শসস্ত্র গ্রুপ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), মিয়ানমারের শসস্ত্র গ্রুপ আরকান আর্মির (এএ) বান্দরবানে শসস্ত্র কার্যক্রম আছে। জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি,থানচি উপজেলায় জেএসএস, ইউপিডিএফ, রুমা ও থানচিতে আরকান আর্মি এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে আরএসও এর শসস্ত্র সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিও রয়েছে। আর এসব শসস্ত্র দলের সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ভারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো।
জেলায় জঙ্গি আস্তানার বিষয় উড়িয়ে দিয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার জন্য যা দরকার সব কিছুই করা হয়েছে।’
২০১১ সালের ২৯ মার্চ থানচি উপজেলার বলিপাড়া এলাকা থেকে জেএমবি‘র সদস্য শামীম মাহফুজ, পারভেজ ও মো. ইসমাইলকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাড়ি রাজশাহী বিভাগে। শামীম মাহফুজ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে ৮টি বিশেষ জ্যাকেট, ফোন এন্টেনা, ধর্মীয় বই ও বোমা তৈরির সরঞ্জম উদ্ধার করে পুলিশ। তারা পাহাড়কে নিরাপদ ভেবে থানচির একটি খামার বাড়িতে আস্তানা গাড়ে।
গত বছরের ১৫ অক্টোবর বান্দরবান শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে র্যাব ৩টি একে ৪৭ রাইফেল, ২টি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, ৪টি মোবাইলসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী লাল পিয়ান থা, বাচু বম, চিং থাই চাককে আটক করে। তারা জেএসএস এর সদস্য বলে জানা যায়। পাহাড়ের বিভিন্ন শসস্ত্র সংগঠন থেকে অস্ত্র কিনে দেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছে বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে অস্ত্রগুলো বান্দরবান শহরে এনে মজুদ করেছিল বলে জানায় র্যাব।
বান্দরবান থেকে জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র যাচ্ছে কিনা এই ব্যাপারে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান ) দেবদাস ভট্টচার্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডিআইজি স্যার আশঙ্কা করছেন, তবে বান্দরবানে জঙ্গি আস্তানা আছে কিনা বা অস্ত্র যাচ্ছে কিনা সেই ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য নেই।
/এসএনএইচ/