বাঘ হারিয়ে গেলে সুন্দরবন থাকবে না: মত বক্তাদের

বিশ্ব বাঘ দিবসে সাতক্ষীরা র‌্যালিসুন্দরবন বড় ঝড় থেকে আমাদের রক্ষা করে, আর সুন্দরবনকে রক্ষা করে বাঘ। সুন্দরবনের বাঘ আমাদের গর্ব, তাই বাঘ সুরক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। বাঘ হারিয়ে গেলে সুন্দরবন থাকবে না বলে মত দিয়েছেন বক্তরা।

শুক্রবার সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ সুশিলন টাইগার পয়েন্টে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বাঘ আমাদের জাতীয় প্রাণি, সবাই মিলে রক্ষা করি’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব বাঘ দিবসে এ আলোচনসভার আয়োজন করে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরারেঞ্জ ও ইউএসএইড।

বক্তারা বলেন, বাঘ খাদ্য শৃঙ্খলের প্রাণি, বাঘ বীরত্বের প্রতীক। বাঘকে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। বাঘ শেষ হলে আমরাও শেষ। সুন্দরবনের পাহারাদার বাঘ। সুন্দরবন ধ্বংস হলে আমাদের অস্তিতও টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। সুন্দরবনের কারণে আমরা বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাই।

বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসন সজাগ আছে। বাঘ, হরিণ যারা মারে তাদেরকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিন, তাদেরকে ঘৃণা করুন।

আলোচনাসভা শুরুর আড়ে সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জের ডাক বাংলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে সুশিলন টাইগার পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালিতে অংশ নেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম মহসীন উল মুলক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ মুহাম্মদ সাঈদ আলী, সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এসএম শোয়েব খাঁন, চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল, বন বিভাগ বিভিন্ন স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তারা, শিক্ষার্থী ও ভিটিআরটিসদস্যরা।

টাইগার পয়েন্টে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী। সিএমসি সভাপতি ও বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এসএম শোয়েব খাঁন।

ফরেস্টার জুয়েল চেীধুরীরর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মাল্টিমিডিয়ার প্রেজেনটেশন ভিত্তিক বক্তব্য দেন ওয়াইল্ডটিমের প্রোগ্রাম অফিসার রুবায়েত হাসান। 

তিনি বলেন, আগে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪শ’টি। ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। সারা বিশ্বের ১২টি দেশে বাঘ আছে। এই দেশগুলো এশিয়াতে অবস্থিত।

তিনি আরও বলেন, ৯ উপপ্রজাতির বাঘের মধ্যে ৩ উপপ্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সুন্দরবনে বাঘে মানুষে দ্বন্দ্ব, বাঘ শিকার বা পাচার করা, গ্রামে আসা বাঘকে মেরে ফেলা, বাঘের খাবার কমে যাওয়া, আবাসস্থলের পরিবেশ বিপর্যয় সহ নানান কারণ বাঘের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুবায়েত হাসান বলেন, বাঘ ও সুন্দরবন নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে এবং গণ সচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় জনসমাজকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

/এসএনএইচ/