গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, বাড়ছে দুর্ভোগ

গাইবান্ধায় আশ্রয়কেন্দ্রে একটি পরিবারগাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমেতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সোমবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ও ঘাঘটের পানি ১৮ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। রান্না করার ব্যবস্থা না থাকায় তারা খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ কলার ভেলা বা নৌকায় বিকল্প পদ্ধতিতে রান্না করে কোনও রকম জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

রবিবার সকালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে ফুলছড়ি উপজেলার কালিরবাজার সড়কের পশ্চিম ছালুয়া গ্রাম সংলগ্ন একটি ব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে। এনিয়ে ফুলছড়ি উপজেলায় ৬টি ব্রিজ ভেঙ্গে গেল। এদিকে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় পানিতে নিমজ্জিত ৪০টি কাঁচা-পাকা সড়ক ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে তিন হাজার চার শত ৪০ হেক্টর জমির আউস, রোপা আমন, আমন বীজতলা ও শাকসবজি। ফলে বাজারে শাকসবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে ২৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃঞ্চ সরকার বলেন, পানি কমলেও গাইবান্ধার দুইটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ বছরের বন্যায় গাইবান্ধার চারটি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

/এসএনএইচ/