গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি টেংরা গ্রামে পরকীয়ার বিরোধে দুই নারী ও এক শিশু হত্যার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার চালা অফিস পাড়ার আল আমীন (৩২), একই জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার নয়ন (২০) ও প্রাইভেটকার চালক জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পবাহার নোয়াপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম (২২)।
আল আমীন ও নয়ন শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার রিজভী-মীম-নিশি বস্ত্রালয় অ্যান্ড ফার্নিচার স্টোরের কর্মচারী। রবিউল ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজানুর রহমানের প্রাইভেটকারের চালক।
নিহতরা হলেন শ্রীপুরের টেংরা গ্রামের বাদল মণ্ডলের স্ত্রী নাসরিন মণ্ডল (৩০), হাদিকুলের স্ত্রী মেহেরুন আক্তার (৪৮) ও মেহেরুনের পালিত নাতি শিশু জাইমতি (৪)। নাসরিন সম্পর্কে মেহেরুনের ভাতিজি।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, রবিবার বেলা ১১টার দিকে জাইমতিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে শিশুসহ ওই দুই নারী শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। নাসরিন দুপুর ১টার দিকে তাদেরকে নিয়ে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ির ওই দোকানে যান। দোকানের কর্মচারী আল আমীনের সঙ্গে নাসরিনের পরকীয়া ছিল। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আল আমীন এক পর্যায়ে নাসরিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনা জানাজানির ভয়ে কর্মচারীদের নিয়ে ওই দুজনকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে।
হত্যার পর তিনজনের মৃতদেহ বস্তাবন্দি করে। পরে তারা দোকান মালিক মিজানুর রহমানের প্রাইভেটকারে উঠিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার খাজা খানজাহান আলী মেডিক্যাল কলেজের পাশে যমুনা নদীতে লাশগুলো ফেলে রেখে রাতেই শ্রীপুরে ফিরে আসেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, সোমবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে যমুনা নদীতে দুটি বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তা দুটি উদ্ধার করে। বস্তা খুলে একটির ভেতর এক শিশু ও নারী এবং অপর বস্তায় আরেক নারীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহের স্বজনরা সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
/বিটি/এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
বিরোধ বাড়ি নিয়ে, ফাঁসাতে জঙ্গি আস্তানার অভিযোগ, পুলিশে তোলপাড়