বাঁধে আশ্রিত ৭০ হাজার বানভাসি মানুষ ত্রাণ পাননি

পানি কমতে শুরু করলেও গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে আশ্রিত ৭০ হাজার মানুষ এখনও ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে ।
বন্যাদুর্গত এলাকা

গাইবান্ধায় সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যা কবলিত ৪ উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ২৪৫টি গ্রামের প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানি বন্দি। এরমধ্যে সরকারি ৯৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে মাত্র ১১ হাজার ৪১৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ফুলছড়ির গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী থেকে বালাসী ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে ৭০ হাজার মানুষ। তাদের সঙ্গে আছে গবাদিপশু। বাকিরা বিভিন্ন রাস্তা ও উঁচু এলাকায় এবং কেউ কেউ ঘরে মাঁচা করে বসবাস করছেন।গত দুই সপ্তাহ থেকে এই বাঁধে আশ্রিত মানুষগুলো এখনও ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলার ত্রাণ প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিঠুন কুণ্ড বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আজ মঙ্গলবার এদের তালিকা করা হয়েছে। কাল বুধবার তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
এদিকে বাঁধে ঘুরে দেখা যায়, কোথাও খালি জায়গা নেই। এতো মানুষ একসঙ্গে থাকায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। বাড়ছে বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কিছু টয়লেট স্থাপন করে দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আবার বিশুদ্ধ খাবার পানিরও অভাব রয়েছে এখানে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামের আব্দুল কাদের (৫৫) নামে এক দিন মজুর পানিতে ডুবে মারা গেছেন। সাঁতরে নদী পার হয়ে পাট কাটতে যাবার সময় তিনি পানিতে ডুবে যান।
অপরদিকে বাঁধের ওপর আশ্রিত শত শত পরিবার তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন। গরু -ছাগলেরর খাবার নেই। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এবার বন্যায় ৫৭৭ একর জমির ঘাস সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫০টি গরু, ৪৬৭টি মহিষ, ৫ হাজার ৬৯৩টি ছাগল, ৪ হাজার ২৮১টি ভেড়া, ১৬ হাজার ৭১০টি মুরগি ও আড়াই হাজার হাঁস।
গাইবান্ধায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে সরকার ৪০ লাখ টাকা ও ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চালসহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করেছেন।
এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পশ্চিম ছেঁটে ফেলে শুধুই ‘বঙ্গ’ হতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ!

বন্দুকের নিরাপত্তায় লাঠি!