কুষ্টিয়ার পদ্মা ও গড়াই নদীর ভাঙনে ৮ শতাধিক স্থাপনা বিলীন

কুষ্টিয়ায় নদী ভাঙন, ভেঙে পড়ছে হাটবাজারকুষ্টিয়ার তির উপজেলায় পদ্মা ও গড়াই নদীর ভাঙনে প্রায় ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, খেলার মাঠ, মসজিদ, হাট-বাজারসহ প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এরই মধ্যেই পদ্মার ভাঙ্গনে অন্তত ৫০মিটার পাড় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ী। বর্তমানে কুঠিবাড়ির সাড়ে চারশ’ মিটার দূর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে প্রমত্তা পদ্মা। সূত্রমতে, বছর বছর পদ্মার ভাঙনের কারণে শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী পদ্মার ৪৫০ মিটারের দুরত্বে চলে এসেছে। রবীন্দ্রনাথ যে কাচারিবাড়িতে বসে খাজনা আদায় করতেন তার দূরত্ব আরও কম। রবীন্দ্র কাচারী বাড়ি ৩৫০মিটার এবং রবীন্দ্রনাথের নিজ হাতে নির্মিত চ্যারিটেবল ডিসপেনসারী ৩শ’ মিটার এর মধ্যে চলে এসেছে।

সম্প্রতি বর্ষা মৌসুমে কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকা নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ির পার্শ্ববর্তী ৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। অসংখ্য বসতভিটা আবাদি জমি একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কুমারখালীর বাড়াদী গ্রামের সালামত আলী বলেন, বাড়ি ঘর সব খেয়ে ফেলেছে নদী। বসতভিটে টুকুও নেই। কোথায় থাকব? কোথায় যাব? কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। এক রাতের মধ্যেই সব এলোমেলো হয়ে গেল। এখন ছেলেমেয়ে, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে পড়েছি বিপদে।

একই এলাকার সবুজ শেখ বলেন, থাকার ঘরটা তো নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকি আছে শুধু বাড়ির উঠান আর রান্না ঘর। সেটাও যেকোনও সময় নদীর মধ্যে চলে যাবে। রাতে ভয়টা বেশি করে, কখন জানি নদীগর্ভে চলে যাই। শুধু বাড়াদী গ্রামেই এ অবস্থা নয়। কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া এবং বেড়কালোয়া গ্রামের চিত্রও প্রায় একই। এলাকার হাজারও মানুষ যেকোনও সময় সহায় সম্বলহীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

ইতোমধ্যে এসব এলাকার অনেকেরই বসতভিটে, আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। পদ্মার ভাঙনে খেলার মাঠ, রাস্তা-ঘাট, গাছপালা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কুমারখালী শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন ইসলাম খাঁন তারেক বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই পদ্মা নদীর পানি বেড়ে পার্শ্ববর্তী এলাকা ভাঙতে শুরু করেছে। এ ভাঙন রোধ না করলে কুঠিবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে। গত কয়েকদিনে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। মানুষজন অসহায় হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি পদ্মার ভাঙন এভাবে চলতে থাকে কিছুদিনের মধ্যেই এই এলাকাসহ বিভিন্ন প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সেইসঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে বিশ্বকবি রবীন্দ্ররাথ ঠাকুরের কাচারিবাড়ি, তার নিজের হাতের তৈরি দাতব্য চিকিৎসালয়সহ কুঠিবাড়ি।

কয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, ভাঙনে এই এলাকার অনেক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। বেশ কিছু রাস্তাও এখন হুমকির মুখে। যেকোনও সময় এগুলো বিলীন হতে পারে। খুব দ্রুত যদি এ সমস্যার সমাধান করা না যায় তাহলে সামনে আরো বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে কয়েকটি গ্রামসহ শিলাইদহের কুঠিবাড়ি।

এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহেলা আক্তার বলেন, নদীভাঙনের এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে সেখানে ভাঙন রোধ করার জন্য বালির বস্তা দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমুল হক বলেন, বর্তমানে কুঠিবাড়ি থেকে পদ্মা নদী প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ভাঙতে ভাঙতে এতো কাছে চলে এসেছে। তাই কুঠিবাড়ি রক্ষায় ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সংরক্ষণের জন্য ‘পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতাধীন ৩ দশমিক ৭২০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণের জন্য ১৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ হয়েছে। খুব শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে। এদিকে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় গড়াই নদীর ভাঙনে গত এক সপ্তাহে শতাধিক বসত বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে আছে আরও শতাধিক বাড়ি। বর্ষা মৌসুমে বন্যায় নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, খোকসা উপজেলার ওসমানপুর, বেতবাড়িয়া ও খোকসা পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় বয়ে যাওয়া গড়াই নদীতে গত এক সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি পায়। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও শুরু হয়েছে। ওসমানপুর, বেতবাড়িয়া গ্রামসহ পৌরসভার কমলাপুর এলাকার মিয়া পাড়া, ঋষিপাড়া, হিজলাবট, খানপুর, চান্দট, জাগলবার এলাকায় ব্যপক নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

গত রোববার (৩১ জুলাই) রাতে কমলাপুর মিয়াপাড়া ও ঋষিপাড়ায় এক রাতে সাবেক পৌর কাউন্সিলর মহসিন আলী, ফাতেমা বেগম, বকু মিয়া, মিন্টু, সালামত, বাদশা, আসলু মিয়া, আববাস ও লুজমতের বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। জাগলাবা গ্রামের মধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার পাকা সড়কে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া স্থানে এ বছর আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা জানান, গত বছর কমলাপুর মিয়াপাড়ার মানুষ গ্রাম রক্ষায় নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের বেড় ও মাটি ভর্তি বস্তা দিয়ে ছিল। কিন্তু এ বছর বুঝে ওঠার আগেই নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে গ্রামের ১০ টির অধিক বসত বাড়ি। ভাঙন কবলিত এলাকায় আরও  শতাধিক বাড়ি, মসজিদ, মন্দির ও কয়েক শ’ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কমলাপুর মিয়াপাড়ার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, গত তিন বছরে তিনবার তার ঘর ভেঙেছে। এবারও ভাঙলো। এখন বৃদ্ধ স্বামী নিয়ে তার মাথা গোঁজার জায়গা নেই। খোকসা পৌর সভার মেয়র তারিকুল ইসলাম বলেন, কমলাপুরের নদীভাঙন রোধে অস্থায়ী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেবেকা খান বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কৃষি জমির থেকে মানুষের বসতবাড়ি বেশি বিলীন হচ্ছে। তাদের তালিকা করা হচ্ছে।

ইউএনও আরও জানান, ভুক্তভোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তাদের চালসহ অনান্য সহায়তার জন্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্থদের খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে পুর্নবাসনের আওয়তায় নেওয়া হবে। এছাড়া নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে অবহিত করা হচ্ছে।

অপরদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। আকস্মিকভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিনে উপজেলার ফিলিপনগর, চিলমারী ও মরিচা ইউনিয়নে ৫টি মসজিদ ও ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৮টি গ্রামের সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি ইউনিয়ন পরিষদ, একটি ইউনিয়ন ভুমি অফিস ও ৫টি মসজিদ, প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি ও দু'টি হাট-বাজার। নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষের এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করলেও তাদের মাঝে এখনও কোনও সরকারি বা বেসরকারি কোন সাহায্য পৌঁছায়নি।

কুষ্টিয়ায় নদী ভাঙন, গ্রাম চলে যাচ্ছে নদীগর্ভেভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে মহিষকুন্ডি-রায়টা বেড়ি বাঁধের ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলাম থেকে মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখানকার ইসলামপুর, ফিলিপনগর, উত্তর ফিলিপনগর, গোলাবাড়ি ও বৈরাগীরচর পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে।

এলাকাবাসী জানায়, ফিলিপনগর ইউনিয়নের গোলাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোলাবাড়ীয়া তহহাট, ফিলিপনগর জামে মসজিদ ও ফিলিপনগর যুব সংঘ ক্লাবসহ সহস্রাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মাত্রা এত তীব্র যে, অনেকে বাড়ি ঘরের মালামাল সরিয়ে নেবার সুযোগ পাচ্ছে না। এদিকে নদী থেকে মাত্র দেড়শ' মিটারের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফিলিপনগর সংযুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিএম কলেজ, শহীদ ইয়াকুব আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কাচারীপাড়া রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ফিলিপনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর মক্তব ও খানকা শরীফ, ইসলামপুর বাজার, আবেদের ঘাট বাজার, গোলাবাড়িয়া মাদরাসা, ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ, ফিলিপনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ফিলিপনগর বাজার যে কোনও সময় বিলীন হতে পারে।

স্থানীয় ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নঈমুদ্দিন সেন্টু জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। পদ্মা নদীবেষ্টিত চিলমারী ইউনিয়নে বিলীন হয়ে গেছে, নাসির বিশ্বাস প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য উদয়নগর রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এছাড়া পশ্চিম চর ভবনন্দিয়াড়, পূর্বচর ভবনন্দিয়াড়, তেমাদিয়া, জুতাশাহী ও বাজুমারা এলাকায় নদীভাঙনের ফলে সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছে সেখানকার ৪ শতাধিক পরিবার। স্থানীয় চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, পদ্মার ভাঙনে গত ১০ দিনে তার ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের ৫টি গ্রামের ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙন-আতংকে অসংখ্য পরিবার ভিটে ছেড়ে রাস্তায় এবং অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

মরিচা ইউনিয়নের নতুন চর রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়, ও পোড়ারদিয়াড় রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নতুন চর জামে মসজিদ ও পোড়ারদিয়াড় জামে মসজিদসহ বৈরাগীর চর, মুলুকচাঁদপুর ও নতুনচর এলাকার দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বৈরাগীরচর মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুটি হাট-বাজারসহ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুল হক বলেন, নদীভাঙন শুরু হওয়ায় চরম আতঙ্ক ও কষ্টে আছে এখানকার মানুষ। নদীভাঙনের কথা উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরকে বারবার অবহিত করার পরও কষ্টে থাকা এসব মানুষের সহযোগিতায় তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুন কুমার মন্ডল জানান, নদীর ভাঙনের কথা শুনে ভাঙন কবলিত এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন। সেখানকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ, ইতিমধ্যে মসজিদ, স্কুল, মাদরাসাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের তালিকা করে তাদের সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, শিলাইদহের কুঠিবাড়ি রক্ষাসহ যে স্থানগুলোতে নদীভাঙন শুরু হয়েছে, সেখানে ভাঙন রোধে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তাদের বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

/এইচকে/আপ-এসএনএইচ/

আরও পড়ুন: বন্যার্তদের ত্রাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: ফারুক খান