পুলিশ হত্যার জেরে পুরুষশূন্য রাইজদিয়া গ্রাম

নিহত আব্দুল মতিনের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিনারায়ণগঞ্জে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে পুলিশ কনস্টেবল আরিফুর রহমানকে (৩৫) হত্যার জেরে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে রাইজদিয়া গ্রাম।

গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁও উপজেলার রাইজদিয়া এলাকাতে পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে ডুবে আব্দুল মতিন (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গণপিটুনি দিলে পুলিশ কনস্টেবল আরিফুর রহমান নিহত হন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের ধাওয়ায় নিহত আব্দুল মতিনের ছয় ভাই, বাবা ও এক ছেলের ( ১৭) কেউ বাড়িতে নেই। বন্ধ আছে তাদের মোবাইল ফোনও। লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার মতো লোকও পাচ্ছে না নিহতের পরিবার সদস্যরা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু আব্দুল মতিনের পরিবারের পুরুষরা নয়, প্রতিবেশী ও স্বজন পুরুষরাও গত বুধবার রাত থেকেই এলাকা ছাড়া। ফলে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। আতঙ্ক আর উদ্বেগে কাতর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভার রাইজদিয়া গ্রাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবদুল মতিনের বাড়িতে নারী ছাড়া কোনও পুরুষ সদস্য নেই। কয়েকজন শিশুকে অন্য নারীদের সঙ্গে  দেখা যায়। বাড়ির উঠানে বসে আব্দুল মতিনের স্ত্রী নূরতাজ বেগম বিলাপ করে কাঁদছিলেন। তাকে সান্তনা দিতে বিবাহিত তিন মেয়ে ও তাদের পরিবারের লোকজন আসলেও কোনও পুরুষ আসেননি। মেয়ের স্বামীরাও নিজেদের আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।

আধাপাকা ঘরের পাশে গোয়াল ঘরে তিনটি গরু  বাঁধা থাকলেও মুরগীর খামার বন্ধ দেখা যায়। মূলত গরুর খড় আনতে গিয়েই বুধবার পুলিশের রোষাণলের শিকার হন আব্দুল মতিন। তার ছেলে জোবায়ের হোসেন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চাকরি করলেও গত বুধবার রাত থেকে মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।

নিহত মতিনের স্ত্রী নূরতাজ বেগমে অভিযোগ করে বলেন,‘গত বুধবার রাতেই পুলিশ কয়েক দফা বাড়িতে তল্লাশি চালায়। শুনেছি পুলিশ মামলা করেছে। আর এতে আমাদের পরিবারের লোকদের আসামি করা হয়েছে। এখন লাশ দাফনের জন্য গ্রামের কোনও পুরুষ সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি আরও জানান, ৬ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তার স্বামী দ্বিতীয়। পানাম পুল সংলগ্ন আদমপুর বাজারে তার পান সুপারির পাইকারী দোকান ছিল। অন্য ভাইয়েরাও সেখানে ব্যবসা করতো। বুধবার থেকে ওই বাজারের অধিকাংশ দোকান বন্ধ দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহত আবদুল মতিন ও পুলিশের কনস্টেবল আরিফুরের লাশ নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য আনা হয়। দুপুর ১টার দিকেও হাসপাতালে গিয়ে পুলিশের দুইজন সদস্যকে দেখা গেলেও নিহত পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

নিহতের বড় মেয়ে শিউলি আক্তার জানান, লাশের ময়না তদন্তের পর লাশ পেতে বিকেল হতে পারে। লাশ আনার পর দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি মসজিদের ইমাম ও গোরস্তান কমিটিকে জানানো হয়েছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, বুধবারের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে সোনারগাঁও থানার এসআই আলামিন তালুকদার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায়  প্রথমে ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে জানিয়েছেন ওসি মঞ্জুর কাদের।

মামলায় গ্রাম পুরুষ শূন্য হওয়ার বিষয়ে ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনও নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না।

/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন: 

যে কারণে রিমান্ডে হাসনাত ও তাহমিদ  

বৃহস্পতিবার খালেদার বাসায় যাচ্ছেন কাদের সিদ্দিকী