মানুষের কারণেই বিপর্যস্ত হাতি!

জামালপুরের চরাঞ্চলে হাতিটিকে তাড়া করছে গ্রামবাসীসরিষাবাড়ির শিশুয়া নদী পাড় হয়ে পশ্চিমে কৃষ্ণপুরের দিকে দিশেহারা হয়ে ছুটে চলেছে ভারত থেকে আসা সেই বন্য হাতি। হতাশ হলেও হাল ছেড়ে দেননি আসামের বন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হাতিটি যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই তার পিছু নিচ্ছে মানুষ আর মানুষ। একেতো প্রতিকূল পরিবেশ, তার ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে হাতিটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের এই বাড়াবাড়ির কারণেই হাতিটিকে বাগে আনা যাচ্ছেনা বলেও মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা।

হাতিটির আদি নিবাস ভারতের কোনও বনাঞ্চল হলেও  বন্যার পানিতে ভেসে এসেছে বাংলাদেশে। ১১ জুলাই প্রথমে আশ্রয় নেয় জামালপুরের বন্যা কবলিত চরে।

তখন থেকে হাতি দেখতে দলে দলে মানুষ ভিড় জমাতে থাকে। প্রতিকূল পরিবেশ, খাবারের অভাব, মানুষের কোলাহল সবকিছু মিলে হাতিটি কিছুতেই স্থির হয়ে এক জায়গা থাকতে পারেনি। অনেকটাই দিশেহারা হয়ে এদিক সেদিক ছুটতে থাকে। জামালপুর থেকে ১৯ জুলাই চলে যায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের চরে। সেখান থেকে ২৬ জুলাই পুনরায় চলে আসে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে।

একে তো বন্য হাতি যে কোনও সময় অঘটন ঘটাতে পারে। এ কারণে  ছুটে আসে বাংলাদেশ বন বিভাগের লোকজন।  গত ২৪ দিন ধরে তারা হাতিটিকে চোখে চোখে রাখে। এদিকে খবর পৌঁছে ভারতের বনবিভাগের কাছেও। বুধবার আসাম বন বিভাগের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে পৌঁছান হাতিটি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য।

হাতি উদ্ধারের পর ট্রাকে তোলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ক্রেন

আজ  শুক্রবার সকাল থেকেই চলে হাতি উদ্ধারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। প্রথমে জামালপুরের জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সরিষাবড়ি উপজেলা প্রশাসন হাতিটির কাছে না যেতে এবং অযথা ভিড় না করার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপর উদ্ধার চেষ্টা শুরু করতেই হাতিটি শিশুয়া নদী পাড় হয়ে পশ্চিম দিকে চলে যায়।

প্রতিনিধি দলের সদস্য গোয়ালপাড়া জেলার বন কর্মকর্তা সোলেমান উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন,যেহেতু চারদিকে বন্যার পানি,এরমধ্যে অজ্ঞান করা হলে হাতিটি মারা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এ যাত্রায় তাদেরকে হয়তো শূন্য হাতেই ফিরে যেতে হবে। বন্যা শেষ হলে আবারও আসবেন তারা।

ভারতের আসাম থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের মধ্যে আছেন আসামের গোয়ালপাড়া জেলার বন কর্মকর্তা সোলেমান উদ্দিন চৌধুরী,অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা রিথেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য্য, এবং  আসামের ভেটেরিনারি সার্জন ড. কে. কে. শর্মা। ভারতীয় দলটিকে সহায়তা করা বাংলাদেশি দলটির প্রধান ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ রায়।

এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

উদ্ধার করা যায়নি হাতিটি