সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের পুলিশ ক্যাম্পে হামলা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনি কলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের পুলিশ ক্যাম্পে  হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।গাইবান্ধা জেলা
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, রবিবার বেলা ২টার দিকে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির কিছু নেতার নেতৃত্বে প্রায় ৪/৫ শ’ মানুষ তীর-ধনুক, বল্লম, হাসুয়া, লাঠিশোঠা নিয়ে খামারে স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করে। এসময় তারা ক্যাম্পের চেয়ার টেবিল, জানালা দরজা ভাঙচুর করে বেশ কিছু মালামাল নিয়ে যায়।
তবে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি সিলিমিন বাক্সে বলেন, পুলিশ ক্যাম্পে হামালার প্রশ্নই উঠে না। বিনা কারণে আমাদের মিছিল থেকে ২জন আদিবাসীকে আটক করার কারণে আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছি। আমাদের বিক্ষোভের কারণে প্রশাসন আটককৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
গাইবান্ধা পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম  বলেন, হামলার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত. ১৯৫৫ সালে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর, রামপুরা, সাপমারা, ফকিরগঞ্জ ও সাহেবগঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ৮৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত ১ জুলাই প্রায় ১০০ একর জমি দখল করার উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকজন লোক একচালা ঘর নির্মাণ করেন।
কিন্তু সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি সিলিমিন বাক্সে বলেন,চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে। সেখানে ওই সব জমিতে আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওই সব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আন্দোলন করেও কাজ হয়নি। তাই তারা দখল করেছেন। 

চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল বলেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়,কখনও চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সে ক্ষেত্রে ওই সব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে।

 আরও পড়তে পারেন: সেপ্টেম্বরে ফেরত আসতে পারে রিজার্ভের দেড় কোটি ডলার

/এমএসএম/