মৌলভীবাজারে আর্থ সংকটে বাড়ছে না কুচিয়া চাষ

মৌলভীবাজারমৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তিলকপুর এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরি পরিবারের রাজেন্দ্র সিংহ বাণিজ্যিকভাবে কুচিয়া চাষ শুরু করেছেন। তবে আর্থিক সংকটে তিনি খামার বড় করতে পারছেন না।

রাজেন্দ্র সিংহ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিড বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫ কেজি কুচিয়া দিয়ে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন। কংক্রিটের হাউজে (ট্যাংকি) কুচিয়া চাষ শুরু করেন তিনি। মূল হাউজের পাশে বাচ্চা প্রজননের জন্য ছোট একটি হাউজ রাখা হয়েছে। যেখানে ১০টি স্ত্রী ও একটি পুরুষ কুচিয়া রাখা হয়েছে। কুচিয়াকে খাবার হিসেবে কেঁচো, ছোট ছোট মাছ, সুঁটকি গুড়া এবং মাছের খাবার দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে খামারে প্রায় ৭০ কেজি কুচিয়া আছে। এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। হাওরে যারা কুচিয়া ধরে তাদের কাছ থেকে বাচ্চা কুচিয়া ৩শ’ টাকা কেজি দরে কিনে খামারে বড় করে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। একটি কুচিয়ার ওজন সর্বোচ্চ ২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

বিভিন্ন এলাকায় কুচিয়া কুঁচে, কুঁচে মাছ, কুচিয়া, কুইচ্চা বা কুচে বাইম ইত্যাদি নামে পরিচিত। এটি একটি ইল-প্রজাতির মাছ। Sybranchidae পরিবারের অন্তর্গত এই মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Monopterus cuchia। কুচিয়া সাধারণত কাদাতে থাকে।

মৌলভীবাজার জেলার চা বাগানে চা শ্রমিকদের উন্নত ও সুস্বাদু খাবারের মধ্যে কুচিয়া অন্যতম একটি খাবার। এছাড়া কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও কুচিয়া খেয়ে থাকে।

কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসার শাহাদাৎ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মৎস্য বিভাগের কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষের প্রকল্প আছে। শিগগিরই খোঁজ নিয়ে চাষী পর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদেরকে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে খামার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন:

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পড়ে ‘মফিজ’ বনে গেলাম: এডিসি ছানোয়ার

ডার্কনেটে চলছে ‘রাহমানী-আওলাকি’র দাওয়াত!

এবার ‘সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ’!