সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা নেলি চাকমা শিজকমূখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। আর প্রত্যাহার করে নেওয়া শিক্ষা অফিসরার হলেন- উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল করিম ও সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাপ্রুচাই মারমা। একই সঙ্গে তারা যথাক্রমে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে সংযুক্ত করা হয়।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন সোমবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পরই তিনি সকাল ১০টার মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, এই ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের অবশ্যই শাস্তি হওয়া দরকার। এখানে ছাড় দেওয়া যায়না। এ জন্য অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এস এম জাকির।
গত রবিবার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি’ বিষয়ের ৪১ নম্বর প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা নিয়ে লেখালেখি হলে বাংলা ট্রিবিউন এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘রাঙামাটিতে প্রাথমিক স্কুলের প্রশ্নপত্রে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রনয়নকারি শিক্ষিকা নেলি চাকমাকে সাময়িক বরখাস্ত, পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল করিম ও পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারি শিক্ষা অফিসার রাপ্রুচাই মারমাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছগি থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পরিষদে সংযুক্ত করা হয়। একই সাথে এই দুই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মহাপরিচালককে অনুরোধ জানানো হয়।
/এসএনএইচ/
আরও পড়ুন:
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পড়ে ‘মফিজ’ বনে গেলাম: এডিসি ছানোয়ার