‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’

মানববন্ধনে বক্তারারামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।  শুক্রবার বিকেলে মহানগরীর শিববাড়ীর মোড়ে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধীতা করে এবং জাতীয় সম্পদ সুন্দরবনকে রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষক-শীক্ষার্থীরা। তাদের দাবি  ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই, তবে সুন্দরবনের কাছে নয়’।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে আন্দোলন হলেও তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। খুবির সাবেক ছাত্রী উশিন ফাতিমার নেতৃত্বে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আকাশ, কয়লা বিদ্যুৎ রক্ষা কমিটির নেতা ডা. মনোজ কুমার দাস,  নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, পরিবেশবিদ মাহফুজুর রহমান মুকুল, শেখ সাদী ভূঁইয়া, নারী নেত্রী সিলভী হারুন, এস এম শাহনেওয়াজ, ডা. নাসির উদ্দীন, কাজল ইসলাম, অবান্তি কুণ্ডু, নাহিদ, মাহবুবুল হক, ইকবাল হোসেন, সেলিম খান, এম এ কাশেম প্রমুখ।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী বলেন, ভারত সরকার তার দেশে এ প্রকল্প চালু করতে পারেনি। তারা কৌশলে সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চাইছে। সরকারকে বারবার এ নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে অবগত করার পরও কেন এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তা তাদের বোধগম্য নয়।

বক্তরা আরও বলেন, বারবার বলার পরও যখন সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটছে না, তখন সচেতন সমাজ আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। তারা ফেসবুকে প্রতিবাদ করতে করতে ক্লান্ত। এ জন্য তারা রাজপথে নেমে এসেছে। যত দিন না রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে, ততদিন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা দেশ কিংবা খুলনার উন্নয়নের বিরোধী নই, আমরাও দেশের উন্নয়নে বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই। কিন্তু কয়লাভিত্তিক কিংবা সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় কোনওভাবেই রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীরা বিবেকের তাড়নায় দলমত নির্বিশেষে একই প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।

/এসএনএইচ/