গত বছর ১ হাজার ৩৫৬ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবার পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩০ জন।
এবারের পরীক্ষায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৪৩ হাজার ৮৭০ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ফল প্রকাশ করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শামসুল ইসলাম। তিনি জানান, ইংরেজি ও তথ্য -যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। এটাকে ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এইজ (বয়স) গ্রুপের কারণে এমনিতেই এইচএসসিতে পাসের হার কম হয়। তার ওপর ইংরেজি ও আইসিটিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা আমাদেরকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। আমরা এটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চালাবো।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ইংরেজিতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী ১৮ থেকে ৩০ এর মধ্যে নম্বর পায়নি। গত বছর ইংরেজি বিভাগে ৮৫ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৭৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে গত বছর ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৯৩ শতাংশ। এ সাবজেক্টে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী পাস নম্বর পায়নি। এ দু’টি বিষয় আবশ্যিক হওয়ায় এবং পাসের হার কম হওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে তার মন্তব্য।
তবে ফল বেশি খারাপ হয়েছে মানতে নারাজ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাসমুল ইসলাম,‘‘তার মতে-সার্বিক ফলাফল ভালই হয়েছে। দেশের অন্যান্য বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ফল বেশি খারাপ হয়েছে বলা যাবে না।’’
সিলেট বোর্ডের অধীনে চার জেলায় পাসের হার হলো-সিলেটে ৭৩ দশমিক ৩০, হবিগঞ্জে ৬৭ দশমিক ২০, মৌলভীবাজারে ৬০ দশমিক ৬২ ও সুনামগঞ্জে ৬৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, মৌলভীবাজার একটি উন্নত জেলা। অথচ এ জেলায় পাসের হার কমেছে। দারিদ্র্য, অ্যাপ্রোচিংয়ের সমস্যা, নাকি শিক্ষকের অভাবে এটা হচ্ছে, আমরা তা খতিয়ে দেখবো।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বোর্ডে এবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেশি পাস করেছেন।
এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৭৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, মানবিক বিভাগে ৬২ দশমিক ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছেন ৮৭ দশমিক ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। বোর্ডে এবার ১ হাজার ৩৩০ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৬ জন।
মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ গ্রেডে ৬ হাজার ১৩৪ জন, এ মাইনাস গ্রেডে ৭ হাজার ৯৭৮ জন, বি গ্রেডে ১১ হাজার ৩৭৩ জন, সি গ্রেডে ১৫ হাজার ৫৩০ জন ও ডি গ্রেডে ১ হাজার ৫২৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান
বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। ২০১২ সালে এ বোর্ডে হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ ও ২০১৬ সালে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এগিয়ে ছেলেরা
এ বোর্ডে গত বছর মেয়েরা ভাল ফল করলেও এবার মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা বেশি পাস করেছেন। ২৯ হাজার ৫৫৩ জন ছেলে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭৭৯ জন। অন্যদিকে, ৩৪ হাজার ৪০৬ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৩ হাজার ৯১ জন।
শতভাগ পাস করেছে ৫টি কলেজ
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অধীনে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন কোনও প্রতিষ্ঠান নেই-যাদের কোনও শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫ টি শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে।
/এপিএইচ/আপ-এসএনএইচ/