চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ড্যাপ (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তদন্ত কমিটি খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন জমা দেবে। বৃহস্পতিবার কমিটির সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফারটিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তাহের ভূঁইয়া একথা জানান।
বিসিআইসি গঠিত ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। হয়তো দ্রুত রিপোর্ট দিয়ে দিলাম কিন্তু তাতে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমরা পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট দিতে চাই।’
তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিসিআইসি বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করবো। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে সেটা পাবলিক করবে কিনা। এটা আমাদের দায়িত্ব না।’
কমিটির আরেক সদস্য কাফকোর সাবেক প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা শেখ শফি আহমেদ বলেন, ‘আমরা তদন্তের অংশ হিসেবে সবার সঙ্গে কথা বলছি এবং আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলমান। এটা হাইলি টেকনিক্যাল ইস্যু। আমরা চেষ্টা করবো যথাসময়ে রিপোর্ট জমা দিতে।’
তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রফেসর ড. এমএএ শওকত চৌধুরী (ডিপার্টমেন্ট অব ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, বুয়েট) বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আজ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শনি-রবিবারের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটিকে যেসব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়, দুর্ঘটনার দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ (কেউ জড়িত কিনা), কারখানায় আরও যে দুটি রিজার্ভ ট্যাঙ্ক আছে, সেগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনও ঝুঁকি আছে কিনা তা নির্ণয়, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও তিনদিনের মধ্যেই বিসিআইসি চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ড্যাপ-১ এর পাশেই একটি খাল আছে যা ড্যাপ খাল নামে পরিচিত। এই খাল পাশের গোবাদিয়া খালের সঙ্গে মিশেছে। এই খালের পানি পুরোটাই এখন হলুদ রঙ হয়ে গেছে। আশপাশের জলাশয়ের মাছ মরে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খালের পাশে মৃত সাপ ও ব্যাঙ দেখা যাচ্ছে। এলাকার এক বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ঘাস, গাছের পাতা পুড়ে কালো হয়ে গেছে।
ড্যাপের এমডি অমল কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের পানি আটকানোর ব্যবস্থা আছে। আশপাশের যেসব পুকুরে অ্যামোনিয়া গ্যাস মিশ্রিত পানি মিশে গেছে সেখানে লাইনিং পদ্ধতি (চুন) প্রয়োগ করা হবে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব বলেন, ‘সার কারখানার অ্যামোনিয়া মিশ্রিত পানি কোনোভাবেই যেন নদী-নালা হয়ে খাল বিলে না ছড়ায়, সে ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। পানি দূষিত হলে তার দায়-দায়িত্ব সার কারখানার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।’
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে ড্যাপ (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের একটি সার কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়ে আশেপাশের এলাকায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। রবিবার (২১ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অ্যামোনিয়া গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৬০ ব্যক্তি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
/বিটি/এমও/এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সার কারখানার গ্যাস ট্যাংকে লিকেজ, ৬০ জন হাসপাতালে