চিতলমারীতে ভেসে গেছে দেড়শ কোটি টাকার মাছ

চিতলমারীতে ভেসে যাওয়া মাছের ঘের রক্ষার চেষ্টাবাগেরহাটের চিতলমারীতে অতিবৃষ্টির ও জোয়ারের পানিতে ২৫ হাজারেও বেশি মাছের ঘেরের চিংড়িসহ দেড়শ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ফলে ঘের মালিকরা পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ঘের মালিকরা তাদের ঘেরের আইলে (উচুপাড়) জাল দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করা হলেও পুঁজিটুকু ঠেকাতে পারেননি তারা। ভেসে গেছে গলদা, বাগদা চিংড়ি, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ নানা প্রজাতির মাছ।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে চিতলমারী উপজেলার বারাসিরায় বিলে গিয়ে দেখা গেছে, আগে থেকে পানি কিছুটা কমলেও এখনও ঘেরের আইল জাগেনি। সব ঘের যেন বিশাল সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। অনেকে জাল দিয়ে ঘেরের পাড় রক্ষা করার ব্যর্থ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সহায় সম্বলহারা ঘের মালিকরা সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

চিতলমারীতে ভেসে যাওয়া মাছের ঘেরচিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া বিলের ঘের ব্যবসায়ী মেসার্স জাহিদ ট্রের্ডাসের স্বত্তাধিকারী মো. জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৭৫ বিঘা জমিতে মাছের চাষ করেছিলাম। বাগদা, গলদা, রুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছে ঘের ভরা ছিল। কিন্তু গত ২১ আগস্ট হঠাৎ বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় মাছের ঘের ডুবে সব মাছ বের হয়ে গেছে। সাথে নষ্ট হয়ে গেছে ঘেরের পাড়ের সব সবজি ক্ষেত। এমনকি ঘেরের বাসায় থাকা ২/৩ লাখ টাকার মাছের খাবারও পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। তাই আবারও ব্যবসা দাঁড় করাতে সরকারি সাহায্য ও ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে পুনঃরায় ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

একই এলাকার ঘের ব্যবসায়ী রাজিব শেখ রাজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বারাশিয়া বিলে ২টি মাছের ঘের করেছিলেন। মাছও ভাল হয়েছিল। কিন্তু পানি বেড়ে সব মাছের ঘের তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। এখন তিনি দেনার দায়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’

চিতলমারীতে ভেসে যাওয়া মাছের ঘের-ঘের ব্যবসায়ী সামাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বিলে আমার ছোট বড় ৪টি ঘের আছে। ঘের ডুবে তার কমপক্ষে ৪০/৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

একই কথা জানালেন ঘের ব্যবসায়ী ইসরাফিল শেখ ওজিয়ার মোল্লাসহ অনেক মাছ চাষী।

চিতলমারী উপজেলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গৌতম মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের মধ্যে গলদা চিংড়ি ও সাদা মাছ  উৎপাদনে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলা অন্যতম। এই উপজেলায় সাড়ে সতের হাজার রেজিস্টার্ডসহ প্রায় ২৫ হাজার মাছের ঘের রয়েছে। টানা বর্ষণে শতভাগ মাছের ঘের ডুবে মৎস্য চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

/এসএনএইচ/