সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুরের কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূর স্বামী রুবেল হোসেন (৩৫) ও শ্বশুর সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
লাকির চাচা আলমগীর জানান, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার চাষীবালী গাঁও এলাকার লাকীর সঙ্গে আট-নয় বছর আগে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজপাড়া এলাকার সামসুল হকের ছেলে রুবেলের বিয়ে হয়। তাদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি রুবেল অন্য এক মহিলার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিল। শুক্রবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
লাকীর ভাসুর ঝুমুর মিয়া জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সুমা আক্তার লাকী ঘরের দরজা বন্ধ করে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে লাকী চিৎকার করে দরজা খুলে ঘরের বাইরে চলে আসেন। এসময় ঝুমুর মিয়া ও তার স্ত্রী লাকীর শরীরে ভেজা কাপড় জড়িয়ে ধরেন এবং পানি ঢেলে দেন। খবর পেয়ে দোকান থেকে এসে স্বামী রুবেল হোসেন ও শ্বশুর সামসুল হক তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন জানান, সুমা আক্তার লাকী এর আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এ নিয়ে কয়েকবার বিচার শালিসও হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ কম্পের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, লাকির শরীরের ৯২ শতাংশ পুড়ে গেছে। লাকির অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল থেকে লাকির স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লাকীর স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ঘটনাটি।
আরও পড়তে পারেন: রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচে
/এমএসএম/