প্রেমের অভিযোগে স্কুলছাত্রকে জবাই প্রেমিকার পিতার!

নওগাঁপ্রেমের অভিযোগে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ভাণ্ডারপুর চকাবির গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র আহসান হাবিব বিদ্যুৎকে গলা কেটে হত্যা করেছে প্রেমিকার পিতা। খুনের একদিনের মাথায় এর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ প্রেমিকার পিতাসহ খুনের সঙ্গে জড়িত অপর তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক এক সংবাদ সম্মেলনে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, জেলার বদলগাছি উপজেলার কোলা ভাণ্ডারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আহসান হাবিব বিদ্যুৎ চকাবির গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে বালুভরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। সেখানে বসবাস করার সুবাদে নানাবাড়ির প্রতিবেশী আলমের মেয়ে একই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
এ সম্পর্কের কথা ফাতেমার পিতা আলম আগে থেকেই জানতো। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফাতেমার নানা মারা গেলে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই সেখানে চলে যায়। ফাতেমা বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মোবাইল ফোনে বিদ্যুৎকে ডেকে আনে। তার শয়নকক্ষে দুজন নিরিবিলি কথা বলার সময় ফাতেমার বাবা বাড়িতে আসে। বাবার ডাকে ফাতেমা বাইরে এলে ঘরের মধ্যে শব্দ শুনতে পেয়ে নিশ্চিত হয় ঘরের ভেতর কেউ আছে।

জোরপূর্বক মেয়ে ফাতেমাকে নানার বাড়িতে রেখে এসে আলম তার সহযোগী একই গ্রামের বুলু, তছলিম ও আমজাদকে সঙ্গে নিয়ে ফাতেমার ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা বিদ্যুৎকে বের করে মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে বুলু পা এবং তছলিম ও আমজাদ দুই হাত ও মাথা ধরে রাখে। আলম গলায় ছুরি দিয়ে জবাই করে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। কারণ ওইদিন তার শ্বশুর মারা যায়। শ্বশুরের লাশ ফেলে রেখে প্রেমিকার পিতা নিজেই অপর তিন সহযোগীকে নিয়ে ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে স্কুলছাত্র বিদ্যুৎকে খুন করে।

পরদিন শুক্রবার সকালে এ হত্যাকাণ্ডের খবর শোনার পর ফাতেমা নিশ্চিত হয় তার পিতাই প্রেমিক বিদ্যুৎকে হত্যা করেছে। জবানবন্দিতেও অকপটে ফাতেমার বাবা আলম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক ওই খুনের বিবরণ দিয়েছে।

/এমপি/