রাজীবপুর বাজারের জিলাপি বিক্রেতা আয়নাল হক (৭০)। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জিলাপি বিক্রি করেন। বয়সের ভারে এখন আর জিলাপি ভাজার কাজ করতে পারেন না। দোকান চালান তার ছেলে রফিকুল হক। শনিবার হাটের দিন কথা হয় তার দোকানে। তিনি বলেন, সেই ভোর ৫টার সময় দোকান খুলেছি। ৮০ কেজি ময়দা, সমপরিমাণ চিনি ও গুড় গুলিয়ে বসেছি। মানুষ পাট বিক্রি করছেন আর আধা কেজি-এক কেজি করে জিলাপি কিনছেন। আগে যেখানে ২০ কেজি ময়দার জিলাপি করতাম এখন সেখানে ৮০ কেজি থেকে ১০০ কেজি ময়দার জিলাপি বিক্রি করছি।
উপজেলার শিবেরডাঙ্গী গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া। তিনি বলেন, প্রতি মণ ১৪শ টাকা দরে আড়াই মণ পাট বিক্রি করেছেন। তাই বাড়ির ছোটদের জন্য এক কেজি গরম জিলাপি নিয়েছেন। তার মতো প্রায় বেশিরভাগ কৃষকই পাট বিক্রি করছেন আর জিলাপি’র প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
পাট কৃষকের অর্থকরী ফসল। কৃষকের ঘরে এমন সময় পাট আসে যখন ঘরে খুব একটা অভাব থাকে না। তাই পাটের দাম ভাল থাকলে কৃষকের মনে আনন্দই থাকে অন্যরকম। পাট বিক্রি করে নগদ নগদ টাকা পেয়ে কৃষক বাজার থেকে কেনেন নারিকেল, আখ ও ইলিশ মাছ।
মাঝে কিছুদিন পাটের দাম না পাওয়ায় কৃষকের এ আনন্দ অনেকদিনই ছিল বন্ধ। কিন্তু সময় বদলে গেছে। বাজারে পাটের চাহিদা বেশি, দামও ভালো। তাই কৃষকের ঘরে ঘরে ফিরে এসেছে গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্য। পাট বিক্রি করে জিলাপি, নারিকেল, আখ ও ইলিশ মাছ কিনে বাড়ি ফেরা।
/এমপি/