জঙ্গি রিপনের লাশ নেবে না পরিবার

 

রাজশাহী

বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আবু ইব্রাহীম ওরফে তারেক ওরফে রিপনের লাশ নেবে না তার পরিবার। তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, তার পরিবার লাশ গ্রহণ করবে না, এমন কথা আমাদের জানায়নি। লাশের ময়নাতদন্ত হবে বগুড়ায়। তাই লাশ গ্রহণ করতে না চাইলে বগুড়া পুলিশকে জানাতে পারে তার পরিবার।
রাজশাহী মহানগরীর পাঠানপাড়া এলাকার ১৬৯ নম্বর বাড়িটি রিপনের। রিপনের বাবা  গোলাম সবুর ওরফে বাবলা মারা যাওয়ার পর তার দাদি তাকে তিনতলা এ বাড়িটি তৈরি করে দেন। রিপন থাকতেন নিচতলায়। দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন তার চাচা আবদুস সালাম। আর তিনতলা ভাড়া দিয়েছেন রিপন।
রিপনের বোন সামিনা ফেরদৌস তিন্না জানান, রিপনের একমাত্র অভিভাবক বলতে গেলে এখন তিনিই। তবে তিনি তার লাশ গ্রহণ করবেন না।
তিনি আরও জানান, সোমবার রিপন বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পর ওই দিনই বিকেলে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকেসহ তার স্বামী হাফিজুর রহমান, চাচা আবদুস সালাম ও চাচাতো ভাই ইউসুফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তখনই তারা পুলিশকে রিপনের লাশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, তাদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছিলাম।জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে কি জানিয়েছে তা আমার জানা নেই।
সামিনা ফেরদৌস বলেন, বোন হিসেবে ভাইয়ের জন্য মন কাঁদছে। কিন্তু কিছু করার নেই। কোনও দেশবিরোধী জঙ্গির লাশ গ্রহণ করতে পারি না। লাশ গ্রহণ করলে সমাজের মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে ছোট হয়ে যাব। আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ লাশ নেওয়ার পক্ষে না।
রিপনের চাচি বেবি বেগম ও চাচাত বোন তমা খাতুন জানান, জঙ্গি রিপনের লাশ তারা নিতে আগ্রহী নন। রাষ্ট্রবিরোধী জঙ্গিকে নিজেদের আত্মীয় বলে পরিচয় দিতেও লজ্জা পান তারা। 

বেবি বেগম জানান, ছোটবেলায় রিপনের বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা ঝর্ণা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে গেছেন। তিনি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হোস্টেলের আয়া হিসেবে চাকরি করেন। তিনি ছেলের লাশ নিতে চাইবেন না। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন যারা আছেন, তারাও কেউ লাশ নিতে আগ্রহী নন।
সোমবার ভোররাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জেএমবির সামরিক কমান্ডার বদর মামা ওরফে খালেদ মামা এবং আবু ইব্রাহিম ওরফে তারেক ওরফে রিপন নিহত হন। খালেদ মামার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে।
বগুড়ার শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরফান আলী জানান, তাদের লাশ এখন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। তাদের স্বজনরা লাশ নেবেন কিনা তা এখনও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। স্বজনেরা নিতে না চাইলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন অথবা আঞ্জুমানে মফিদুলের মাধ্যমে জঙ্গিদের লাশ দাফন করা হবে।

 আরও পড়তে পারেন: বিচার বানচাল করতে মীর কাসেমের তিন কৌশল

/এমএসএম/