তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিক লাভের আশায় কোনও কোনও খামারি মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করছেন।আর খামার মালিকদের দাবি, তাদের খামারের গরুকে স্বাভাবিক খাবারই দেওয়া হয়। খামারে পালিত প্রতিটি গরু এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি গরু থেকে ৮/২০ মণ গোসত পাওয়া যাবে।
শার্শার উলাশী বাজারের পাশে ৩৮টি গরু নিয়ে গড়ে ওঠা খামারের মালিক তুহিনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১২ বছর আগে ১২ হাজার টাকায় একটি গরু কিনে এই ব্যবসা শুরু করি। ভারত থেকে গরু আসায় এক সময় লোকসান গুনেছি। বর্তমানে গরু আসা কমে যাওয়ায় এবার ভালো লাভের আশা করছি। ইতোমধ্যেই ১০ লাখ টাকার গরু বিক্রি করেছি।’
খামার মালিক নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আট বছর আগে গরুর খামার গড়ে তুলি। শুরুতে কয়েকটি গরু থাকলেও খামারে এখন গরুর সংখ্যা ১৭০টি। এসব গরুর সর্বক্ষণিক পরিচর্যা ও দেখভালের জন্য ২৫ জন কর্মচারী আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় গরু দিয়েই আট বছর আগে খামার চালু করি। ভারত থেকে আনা গরু এবং স্থানীয় বাজার থেকে কেনা প্রতিটি গরুকে ৬ থেকে ৭ মাস খামারে রেখে পরিচর্যা করার পর বিক্রি করলে ভালো লাভ হয়। তাই এই ব্যবসার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে যায়।’
সরেজমিনে খামারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাথার ওপর ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা, নিচে কার্পেট বিছানো। মশা-মাছির উৎপাত থেকে রক্ষার জন্য টাঙানো রয়েছে মশারি। খাবারের তালিকায় আছে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য আর সর্বক্ষণিক চলছে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যা।
স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা জানান, পুটখালি সীমান্ত দিয়ে আগে প্রতিদিন ৩/৪ হাজার গরু আসতো। এখন বিএসএফ ও বিজিবি’র কড়াকড়িতে গরু আসছে না। ফলে আগে যে গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা ছিল, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে লাখ টাকা। তাই দেশের খামারগুলোতে গরু পালন করা হলে সংকট কাটানো যাবে। এতে দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানও হবে বলে।
খামারি তুহিনা বেগমের বলেন, ‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেকেই খামার গড়ে তুলবে। এছাড়া উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে ভারত থেকে গরু আনার দরকার হবে না। স্থানীয় খামারিরাই দেশের গোশতের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘খামারগুলো প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হয়। এসব খামার থেকে কয়েক হাজার সুস্থ গরু আগামী কোরবানির ঈদে বাজারজাত করতে পারবে খামারিরা।’
খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাখালদের ভারত থেকে গরু আনতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে রাজস্ব পরিশোধ করে জিরো পয়েন্ট দিয়ে গরু আনা যাবে। আর দেশে চাহিদা মেটানোর জন্য গ্রামবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে নিরীহ কেউ জীবন হারাক, আমরা তা চাই না।’
/এসএনএইচ/