বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে প্রায় ৩২০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গরান, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, সুন্দরী, কাকড়া, গোল, খলসি ইত্যাদি। সুন্দরবনের উদ্ভিদের মূল বৈশিষ্ঠ এগুলো লোনা মাটির ও জলজ শ্রেণির। জোয়ার ভাটার অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে এসব উদ্ভিদ বংশ বিস্তার করে। নদীর পানিতে পড়ার পর এসব উদ্ভিদের ফল ও বীজ থেকে জন্ম নেয় নতুন চারা।
পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সুন্দরবন উপকূলীয় মুন্সিগঞ্জ, হরিনগর, গাবুরা, পদ্মপুকুরা এলাকার প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ ভেসে আসা ফলগুলোর শ্বাস বাদ দিয়ে উপরের খোলস জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করছে।
তারা আরও বলেন, ‘বাইন ফল আগুনে পোড়ে না সেজন্য এটি আমরা আবার নদীতে ফেলে দেই, যাতে গাছ জন্মাতে পারে।’
সুন্দরবন গবেষক পিযুষ বাউয়ালি পিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্ষার মৌসুমে সুন্দরবন বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে আসলে সুন্দরবন পাড়ের বনজীবীরা না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এই ফল যদি জালানি হিসেবে ব্যবহার না হতো তবে আরও একটি নতুন সুন্দরবন গড়ে উঠতো।’
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মো. সোয়েব খান বাংলা ট্রিবিউনেক বলেন, ‘এ ব্যাপারে বনবিভাগ সচেনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন ফল জালানি হিসেবে ব্যবহারের হার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। এছাড়া সুন্দরবনে বনবিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।’
/এসএনএইচ/