জ্বালানি হিসেবে ফলের ব্যবহার, হুমকিতে সুন্দরবনের গাছের বংশ বিস্তার!

নদীর পানিতে ভেসে আসা ফল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন এলাকাবাসীসুন্দরবনের পশ্চিম অংশে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নদীর পানির সঙ্গে বনের ভেতর থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন জাতের গাছের ফল। উপকূলীয় এলাকায় এসব ফল থেকেই জন্মায় নতুন গাছ, প্রকারান্তরে আয়তন বাড়ে সুন্দরবনের।  তবে এখন ফল ভেসে আসে কম। কারণ নদীতে ভেসে আসা ফল রোদে শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে গাছের বংশবৃদ্ধি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, একইসঙ্গে আয়তনেও বাড়ছে না সুন্দরবন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে প্রায় ৩২০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গরান, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, সুন্দরী, কাকড়া, গোল, খলসি ইত্যাদি। সুন্দরবনের উদ্ভিদের মূল বৈশিষ্ঠ এগুলো লোনা মাটির ও জলজ শ্রেণির। জোয়ার ভাটার অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে এসব উদ্ভিদ বংশ বিস্তার করে। নদীর পানিতে পড়ার পর এসব উদ্ভিদের ফল ও বীজ থেকে জন্ম নেয় নতুন চারা।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সুন্দরবন উপকূলীয় মুন্সিগঞ্জ, হরিনগর, গাবুরা, পদ্মপুকুরা এলাকার প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ ভেসে আসা ফলগুলোর শ্বাস বাদ দিয়ে উপরের খোলস জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করছে।

নদীর পানিতে ভেসে আসা ফল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন এলাকাবাসীসাতক্ষীরা শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জের হরিনগর এলাকার বিলি রানী, অষ্টমী রাণী, নিলিমা রাণীসহ বেশ কয়েকজন নারী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বৃক্ষের ফল জালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে বাদার (বন) অনেক ক্ষতি হয়। কিন্তু কি করবো জালানি কাঠের অভাবে বাধ্য হয়ে আমাদের এটি করতে হয়।’

তারা আরও বলেন, ‘বাইন ফল আগুনে পোড়ে না সেজন্য এটি আমরা  আবার নদীতে ফেলে দেই, যাতে গাছ জন্মাতে পারে।’

সুন্দরবন গবেষক পিযুষ বাউয়ালি পিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্ষার মৌসুমে সুন্দরবন বিভিন্ন বৃক্ষের ফল নদীর পানিতে ভেসে লোকালয়ে আসলে সুন্দরবন পাড়ের বনজীবীরা না বুঝে তা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এই ফল যদি জালানি হিসেবে ব্যবহার না হতো তবে আরও একটি নতুন সুন্দরবন গড়ে উঠতো।’

নদীর পানিতে ভেসে আসা ফল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন এলাকাবাসীতিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে কয়েকটি এনজিও কাজ করলেও কোনও উন্নতি হয়নি। বরং সুন্দরবনকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা বিদেশীদের কাছ থেকে এনে নিজেরা লোপাট করেছে।’

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মো. সোয়েব খান বাংলা ট্রিবিউনেক বলেন, ‘এ ব্যাপারে বনবিভাগ সচেনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন ফল জালানি হিসেবে ব্যবহারের হার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। এছাড়া সুন্দরবনে বনবিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।’

/এসএনএইচ/