ভিজিএফ কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল বিতরণ

 নীলফামারীজেলার কিশোরীগঞ্জ উপজেলার খাদ্যগুদাম থেকে ভিজিএফ কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল  সরবরাহের  অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার এমন ৩০০ বস্তা চাল পচা প্রমাণিত হলে কিশোরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুনরায় খাদ্যগুদাম হতে ভালমানের চাল সরবরাহ করায় দুপুরের পর চাল বিতরণ আবার শুরু হয়।
এদিকে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা  ইকবাল হোসেন সেই চাল তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যগুদাম থেকে সরিয়ে বিএনপি নেতা তারেক মিয়ার চাতালে পাচার করে দেন।
জানা যায়, বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানে ওই নেতার মিল হতে এই পচা চাল খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়েছিল। খাদ্যগুদামে এমন আরও অনেক নিম্নমানের চাল ও ধানের বস্তা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, ওই উপজেলার চাঁদখানা, বাহাগিলি, মাগুড়া, বড়ভিটা, রণচণ্ডি, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও নিতাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানান, তাদেরকেও এমন চাল খাদ্যগুদাম হতে সরবরাহ করা হয়। যা তারা বুঝতে পারেননি। বিতরণের পর কার্ডধারীরা  জানান, এই চাল খাওয়ার যোগ্য নয়। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।
ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে নীলফামারী জেলায় সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ঈদের আগেই এই চাল বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। কার্ডধারীরা এবার ১০ কেজি করে চাল বিনামূল্যে পাবেন।
জেলার ছয় উপজেলা ও চার পৌরসভায় তিন লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৭ কার্ডের বিপরীতে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ হাজার ৯৮৬ দশমিক ৪৯ টন। এর মধ্যে কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫৫৭ দশমিক ২৬০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ভিজিএফের এই চাল বিতরণ করা হচ্ছিল উপজেলার ৯ ইউনিয়নে । সদর ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় চালের বস্তায় দুর্গন্ধ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করে সেই চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন।

ওই চেয়ারম্যান জানান, তার ইউনিয়নে ৭ হাজার ১৩৮টি কার্ডের বিপরীতে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ ৫৫ টন চাল সরবরাহ করেন। এর মধ্যে ৩০০ বস্তা চাল পঁচা বের হয়, যা খাওয়ার অযোগ্য। চালগুলো খাদ্যগুদামে ফেরত পাঠালে তারা ভালমানের চাল সরবরাহ করে। পরে দুপুরে তা বিতরণ করা হয়।

 জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমের চাল ক্রয় অভিযানে তারেকের চাতাল থেকে এই পচা চাল খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়।  নীতিমালা লঙ্ঘন করে উৎকোচের বিনিময়ে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ওই চাল কিনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনা জানতে কিশোরীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনকে তার অফিসে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

/এমএসএম/