জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মো. সহিদুল ইসলামের ছেলে মো. হাসানুজ্জামান (৪০) খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর ইসলামী ব্যাংকে চাকরি নেন। প্রায় ১১ বছর ধরে তিনি ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করছেন। ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইসলামী ব্যাংক জীবননগর শাখায় সিনিয়র অফিসার ও ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন। হাসানুজ্জামান ইসলামী ব্যাংকের জীবননগর শাখায় যোগ দেওয়ার পর প্রথমে তিনি মেসে থাকতেন। পরে তিনি জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তিযোদ্ধা পাড়ায় ঠিকাদার মো. জাকাউল্লাহর বাড়ি ভাড়া নেন। স্ত্রী মোছা. মোবাশ্বেরা সন্তান সম্ভাবা হওয়ায় দুইমাস আগে তিনি বাবার বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বটিয়াপাড়ায় চলে যান। এর পর গত দুই মাস হাসানুজ্জামান বাসায় একা থাকতেন।গত ১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হন। ২ সেপ্টেম্বর বেলা ১০ টার দিকে হাসানুজ্জামানের বাবা সহিদুল ইসলাম ও এক দুলাভাই জীবননগরে এসে তার লেখা দুইটি চিঠি কোরআন শরীফের ভেতর থেকে উদ্ধার করেন। আত্মগোপনে যাবার আগে স্ত্রীর কাছে লেখা ৬ পাতার চিঠির এক জায়গায় লিখেছেন,‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, এ কারণে স্ত্রীকে তালাক দিলাম।’
অপরদিকে বাবা-মায়ের কাছে লেখা চিঠির এক জায়গায় লিখেছেন,‘আমার বিবেক ও শিক্ষা আমাকে আত্মহত্যা করতে বিরত রেখেছে, তাই দেখি অন্য কোনওভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া যায় কিনা।’
এই চিঠিতে তার কোথায় কতো টাকা জমা আছে, জায়গা-জমি কতটুকু আছে এবং তার প্রথম সন্তান ও অনাগত সন্তান কিভাবে লেখাপড়া করে মানুষ হবে-তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে হাসানুজ্জামানের বাবা ও দুলাভাই ওই বাড়িতে এসে ছাত্রশিবির প্রকাশিত ছাত্র সংবাদসহ বিভিন্ন প্রকারের ইসলামী বই গোপনে নিয়ে যান।
বাবা-মা ও স্ত্রীর কাছে লেখা চিঠি ও বই নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করছেন, হাসানুজ্জামান কোনও জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়ে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছেন।
ইসলামী ব্যাংক জীবননগর শাখা ব্যবস্থাপক নুর মোহাম্মদ জানান, সিনিয়র অফিসার হাসানুজ্জামানের অনুপস্থিতির বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত হোসেন বলেন, আত্মগোপনে থাকা হাসানুজ্জামানের বাবা মো. সহিদুল ইসলাম ছেলের নিখোঁজের ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
/এমএসএম/