প্রিয় মতিহার চত্বরকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন জলি

জলির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সশনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে নিহত শিক্ষক আকতার জাহান জলির প্রথম জানাজা শেষে তার লাশবাহী গাড়িটি বিভাগের সামনে এনে রাখা হয়। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা শেষে প্রিয় মতিহার চত্বর ছেড়ে লাশবাহী গাড়িটি চলে যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে। রেখে যায় প্রিয় এই শিক্ষকের স্মৃতি। সেই স্মৃতিকে আঁকড়ে বিদায় বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মামুন আব্দুল কাইয়ূম স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমি জুবেরি ভবনের ২২৯ নম্বর কক্ষে থাকি। ম্যাডাম থাকতেন ৩০৩ নম্বর কক্ষে। তাই বিভাগ থেকে বের হয়ে প্রায় সময় একসঙ্গে জুবেরি ভবনে নিজেদের আবাসস্থলে যেতাম। তিনি আমাকে আদর করে ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন। তার এই মায়াভরা ডাকটি আর কখনো শুনতে পাব না ভাবতেই বুকটা ভেঙে যাচ্ছে।
একই বিভাগের শিক্ষক কাজী মামুন হায়দার বলেন, এই ম্যাডামের কারণেই আজকের এই আমি। তিনি আমার শিক্ষক, তিনি আমার মা। তার এই মৃত্যু কখনোই মেনে নেওয়া সম্ভব না।
জলির জানাজাওই একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, ম্যাডামের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তিনি খুব সহজেই সব শিক্ষার্থীদের আপন করে নিতেন। ব্যক্তিগত খোঁজখবর নিতেন। যেকোনও প্রয়োজনে যোগাযোগ করলে তা সমাধানের চেষ্টা করতেন। সেই তিনিই এভাবে মারা যাবেন, তা কখনো ভাবতেই পারিনি। তার এই প্রস্থান কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহফুজা আফরিন মায়াও বলেন, ম্যাডাম খুব সহজেই যেকোনও শিক্ষার্থীকে আপন করে নিতেন। যেকোনও সমস্যায় পাশে দাঁড়াতেন। সবসময় হাসিমুখে কথা বলতেন। তিনিই সবসময় আমাদের উপদেশ দিতেন, জীবনযুদ্ধে কখনো হেরে যেতে নেই। বিপদে পড়লে ধৈর্য্য ধরতে হয়। সেই প্রাণপ্রিয় ম্যাডাম আমাদের এভাবে ছেড়ে চলে যাবেন তা মেনে নিতে পারছি না। তিনি ছিলেন আমাদের বিভাগের সম্পদ। তার শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। আমি অনেক ক্লাস ফাঁকি দিলেও ম্যাডামের ক্লাস কখনও ফাঁকি দিইনি। তিনি শুধু আমাদের শিক্ষকই ছিলেন না, আমাদের বন্ধুও ছিলেন। আর সেই ম্যাডামকেই এই মতিহার চত্বরে আর দেখতে পাব না, এটা ভাবতেই বুকটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। 

কাঁদছেন এক সহকর্মীরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা কেয়া বলেন, তিনি একজন সচেতন নারী ছিলেন। জীবনসংগ্রামে লিপ্ত এক আদর্শ নারী। কিন্তু এই সমাজের নিপীড়ন তাকে বেঁচে থাকতে দিলো না। নিপীড়ক যদি একইসঙ্গে ক্ষমতাবান হয়, তাহলে একজন নারীর পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হয় না। যে তিনি বিপদে-আপদে বন্ধুর মতো অনেক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতেন, সেই তিনিই জীবনযুদ্ধে হেরে গেলেন। তার প্রস্থান কখনোই মেনে নেওয়ার নয়।

 এমএসএম/