রবিবার বিকেলে শহরের উত্তর তেমুহনী, বিসিক শিল্পনগরী এলাকা ও বাস টার্মিনালে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ্ উদ্দিন টিপু।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে বাস মালিক ও সংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে ইকোনো, তুহিন, ঢাকা এক্সেপ্রেসসহ বিভিন্ন বাসে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ২/৩ গুণ ভাড়া আদায় করছে বাস কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ৩শ’ টাকার ভাড়া ৬শ’ টাকা এবং রয়েল কোচ নামের পরিবহন ৫শ’ টাকার ভাড়া ৭/৮শ’ টাকা আদায় করছে। পরে যাত্রীদের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে শহরের উত্তর তেমুহনী, বাসটার্মিনাল ও বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অভিযান চালায় ইউএনও। এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে দু’জনকে আটক করে ভবিষ্যতে বাড়তি ভাড়া আদায় করবেনা মর্মে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপরদিকে ফিটনেসবিহীন শতাব্দী পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাওয়ার পথে বিকল হয়। এতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়লেও বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বাস কর্তৃপক্ষ। এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রীদের ভোগান্তি ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর অভিযোগে ওই বাসটি জব্দ করে যাত্রীদের জন্য বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি নুর নবী চৌধুরী বলেন, ‘সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় ইউএনও এর বিশেষ অভিযান প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে যাত্রী ভৌগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হয়ে যাবে।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে কাউন্টারের লোকজন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্তি ভাড়া ফেরৎ দেওয়া হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে শহরের কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ফিটনেস বিহীন একটি বাস সাময়িক জব্দ ও যাত্রীদের জন্য একটি বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা হয়।’
/এসএনএইচ/