কুড়িগ্রামে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সরকারি কলেজের নির্মাণাধীন ছাত্রাবাসের সামনের হেরিংবন্ড রাস্তার ৬৩ হাজার ইট চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদসহ এজাহারনামীয় ৫ জন ও অজ্ঞাত ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
জানা যায়, গত বছর ১৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে এক জনসভা উপলক্ষে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়ক থেকে কলেজ মাঠের জনসভাস্থল পর্যন্ত ইটের হেরিংবন্ড রাস্তা নির্মাণ করা হয়। যা পরবর্তীতে সরকারি কলেজের নির্মাণাধীন ১০০ শয্যার ছাত্রাবাসের সংযোগ সড়ক হিসাবে হস্তান্তর করা হয়। এ রাস্তায় প্রায় ৬৩ হাজার ইট ব্যবহার করা হয়। যা কয়েক ধাপে চুরি করে সরিয়ে নেওয়ার একপর্যায়ে গত বুধবার ভোর রাতে চুরি করার সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইট বোঝাই তিনটি ট্রাক্টর ও ৩০ শ্রমিককে আটক করে। এ সময় মূল হোতারা পালিয়ে যায়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোবহান ইট চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আটকরা শ্রমজীবী মানুষ হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাক্টরগুলো আটক আছে। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, ট্রাক্টর ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন মানিকের নির্দেশে তারা ইট পরিবহনের কাজে গিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’
পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ছাত্রলীগের একটি অংশ ইট চুরি করে আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। বরং তারাই কয়েক ধাপে প্রকাশ্য দিবালোকে ওই রাস্তার ইট সরিয়েছে যা অনেকেই জানে।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সাকিব জানান, আটক ট্রাক্টর চালকরা যাদের নাম বলেছে তারাই দায়ী। ব্যাপারটি এখন পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সূত্র জানান, গতবছর অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে এ রাস্তা নির্মাণ করা হয়। যা পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়। এটির দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষের বলেও জানায় সূত্রটি।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন জানান, রাত ১০টার আগে কলেজ ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু গেট খোলা ছিল কিভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলেজে জরুরি মিটিং করে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদুন্নবীকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
/এমও/