র্যাব ৮ এর উপ অধিনায়ক মেজর আদনান জানান, ‘শুক্রবার সকাল থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ছোট কলাগাছিয়া নদী সংলগ্ন এলাকায় নদীর উত্তর পাড়ে কয়েকজন সন্দেহভাজনদের দেখতে পায়। র্যাব সদস্যরা তাদের কাছাকাছি পৌঁছলে দস্যুরা গুলি করতে থাকে। সরকারি সস্পদ ও জানমাল রক্ষার্থে র্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি করে। ত্রিশ মিনিট ধরে গুলি বিনিময়ের পর জলদস্যুরা গহীন সুন্দরবনে পালিয়ে যায়। গোলাগুলি বন্ধ হলে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল ছোটকলাগাছিয়া নদীর পাড় থেকে ৬ জেলে উদ্ধার করে।’
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন- সাতক্ষীরার বুড়িযেগায়ালিনি এলাকার গ্রামের মৃত কেরামতহ মোল্লার ছেলে মো. আ. রশিদ (৪৭), খোদাবক্স গাজীর ছেলে মো. হান্নান গাজী (৪১), মৃত রশিদ সরদারের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪৩), মো. জাফর গাজীর ছেলে মো. মজিবর হোসেন (৫১), শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের মৃত মাইন উদ্দিন গাজীর ছেলে মো. হাফিজুল ইসলাম (৩২) ও মো. সাদ গাজীর ছেলে মো. আইয়ুব আলী (৪২)।
এ সময় ২টি একনালা বন্দুক, ২টি ওয়ান শুটারগান, বন্দুকের তাঁজা কার্তুজ ১৯ রাউন্ড এবং ফায়ারকৃত কার্তুজের খোসা ৩৬টি এবং ৩টি নৌকা উদ্ধার করে র্যাব। পরে উদ্ধার হওয়া জেলেদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।
মেজর আদনান আরও জানান, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে সক্রিয় গুটি কয়েক বাহিনী কয়েকজন জেলেকে অপহরণ করেছে বলে একাধিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়। এ পরিস্থিতিতে চলমান মৎস্য আহরণ মৌসুমে জলদস্যু বনদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধে এবং অপহ্নত জেলেদের উদ্ধারে ২১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে র্যাব-৮ জোরালোভাবে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপে শরনখোলা রেঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর দুদমুখী পরিত্যক্ত ফরেস্ট ক্যাম্পের খালের পাড় সংলগ্ন বনের মধ্য থেকে জলদস্যুদের ব্যবহৃত ১টি একনালা বন্দুক, ১টি কাটা রাইফেল, ১১ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি বান্ডুলিয়ার এবং দস্যুদের ব্যবহ্নত বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী উদ্ধার করে।’
/এসএনএইচ/