শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকার একগুয়েমি ছেড়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করলেই আমাদের কথা সঙ্গে এক মত হতে পারবে যে, রামপাল প্রকল্প বনগ্রাসী প্রকল্প। যার উদাহরণ শ্রীলঙ্কা ও ভারত নিজেই। তাদের দেশেও এ ধরনের প্রকল্প করতে চেয়েছিল কিন্তু সেই দেশের মানুষের দাবি, পরিবেশবীদদের ব্যাখা বিবেচনা করে সরকার তা বাতিল করে। তেমনি সুন্দরবন রক্ষার জন্য এ ধরনের চুক্তি বাতিল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এতে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করছি যাতে করে এ মহাক্ষতি থেকে রক্ষা করে। আর যদি সরকার না শোনে তার জন্য জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সুন্দরবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক জাগরণ তৈরি হয়েছে।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে মানুষ আনতে টাকার প্রয়োজন হয় আর তাই সরকার জানতে চায় সুন্দরবন নিয়ে আন্দোলনকারীরা টাকা পায় কোথায়। আমাদের কর্মসূচিতে আসতে টাকা লাগে না। মানুষ স্বেচ্ছায় আসে। কারণ এটা মানুষের প্রাণের দাবি। প্রত্যেক তার নিজ প্রাণের দাবিতে আসে। সেই জন্যই গর্ভবতী মা তার আগত সন্তানের জন্য সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন নিয়ে আন্দোলনে তারুণ্যের জোয়ার তৈরি হয়েছে। কুৎসা, লাঠি দিয়ে, টাকার লোভ দেখিয়ে, বন্ধুকের গুলি দিয়ে সরকার সফল হবে না।’
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, শ্রমিক নেতা দুলাল সাহা প্রমুখ।
/এসএনএইচ/