বানারীপাড়ায় লঞ্চ ডুবি, আরও ১ জনের লাশ উদ্ধার





বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি টেনে তোলা হচ্ছেবরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ‘ঐশী-প্লাস’ নামের লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে সন্ধ্যা নদীর শাখা নলশ্রী খাল এলাকা থেকে ব্যবসায়ী জাকির হোসেন হাওলাদারের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সৈয়দকাঠী গ্রামের হামেদ হাওলাদারের ছেলে। তার ধান-চালের ব্যবসা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, লঞ্চ ডুবিতে এখনও এক কলেজ ছাত্র নিখোঁজ রয়েছেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান জানান, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জাকির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা অনুযায়ী মাইনুল ইসলাম রাজু (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের মহিষাপোতা গ্রামের আ. হাই হাওলাদারের ছেলে।’
এদিকে বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় শনিবার দুপুরে ’মেরিন আদালতে’ নৌযানের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। মামলাটি দায়ের করেন বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘মামলায় নৌযান ‘ঐশী প্লাস’র মালিক ইউসুফ হাওলাদার ও চালক নয়ন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘আসামিরা আর্থিক লাভের জন্য অবৈধ নৌযানে যাত্রী বহন করেছিলেন। এমএল টাইপের লঞ্চের জন্য নেওয়া সার্ভে সনদ, রেজিস্ট্রেশন ও সময়সূচি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ সংক্রান্ত বৈধ কোনও কাগজপত্র ‘ঐশী প্লাস’ নামে লঞ্চটির ছিল না। নৌযানটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন করতো।
এর আগে ‘ঐশী-প্লাস’ ডুবির ঘটনায় শুক্রবার বানারীপাড়া থানার এসআই জসিমউদ্দিন বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০৪(খ) ধারায় একই ধরনের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন ।
‘ঐশী-প্লাস’ এর মালিক ইউসুফ হাওলাদার ও চালক নয়ন মিয়াকে এ মামলাতেও আসামি করা হয়েছে। তবে এখনও আসামিদের কেউ গ্রেফতার হননি।
উল্লেখ্য, বুধবার বানারীপাড়া থেকে উজিরপুরের হাবিবপুর যাওয়ার পথে দাশেরহাটের মসজিদ বাড়ি এলাকায় দুপুর সাড়ে ১১টা নাগাদ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যায় ‘ঐশী-প্লাস’ নামের লঞ্চটি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে লঞ্চটি টেনে তোলে বিআইডব্লিউটিএ- এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’।
লঞ্চ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
এপিএইচ/

আরও পড়ুন: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারকে হত্যার হুমকি