শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। এরপর থেকেই মন্দিরে ঢাকের বাজনার পাশাপাশি চলছে ধর্মীয় গান ও পূজা অর্চনা।
শুক্রবার সকাল থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর দিন সন্ধ্যার পর মণ্ডপগুলোর আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়ে উঠে পুরো নগরী। যা দেখতে পুজোর আগেই ভিড় করে বিনোদনপ্রেমী মানুষ।
জানা গেছে, প্রতিবার এক ধরনের লাইটিং বা আলোকসজ্জা করা হলেও এবার কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন কিছু লাইট এবং আলোকসজ্জার জিনিস যুক্ত করা হয়েছে বরিশালের পূজা মণ্ডপে।
বরিশাল শ্রী শ্রী শংকর মঠে আলোকসজ্জায় নিয়োজিত থাকা খোকন মুহুরী জানান, ‘পূজা শুরুর ৩ মাস আগেই ভারত থেকে মালামাল এনে কাজ শুরু করা হয়। তবে এক মাস আগে মণ্ডপের কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি লাইটের গেট গুলোতেও আনা হয়েছে ভিন্নতা। দূর্গা পূজায় শুধু মণ্ডপ নয়, সংলগ্ন এলাকগুলোকেও ঢেকে দেওয়া হয়েছে আলোকসজ্জার বাহারী সাজে।’
প্রতিবারে শংকর মঠের আলোকসজ্জা শ্রেষ্ঠর তালিকায় থাকলেও এবারের আলোকসজ্জায় ভালো ধরনের ভিন্নতা এসেছে নগরীর কালিবাড়ি রোডের পাষানময়ী কালিমাতার মন্দিরের পূজা মণ্ডপ। তাই সেখানেও ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
পাষানময়ী কালিমাতার মন্দির পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্লাবন সাহা জানান, ‘পূজা শুরু না হলেও আলোকসজ্জার ভ্যালকিতে পঞ্চমী থেকেই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ফলে আলোকসজ্জা নিয়ে আমরা নিজেরাও উচ্ছসিত।’
এ ব্যপারে বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র দে নারু বলেন, ‘প্রতিবারেই জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষ আসে বরিশাল নগরীর পূজা উপভোগ করতে। যার মূল বিশেষত্ব হল মণ্ডপগুলোর আলোকসজ্জা। যা এবারেও অনেক স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টি করবে মণ্ডপগুলোতে।’
এবছর বরিশাল নগরীতে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ৩৫টি এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় এ সংখ্যা ৬৬টি। বরিশাল জেলায় ৫৭৩টি ও বিভাগে ১৫৪৫টি। এর মধ্যে ঝলকাঠিতে ১৭২, পটুয়াখালীতে ১৭৭, ভোলায় ৯৬, বরগুনায় ১৪৩ এবং পিরোজপুরে ৪৬২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
বিভাগের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সাধারণ ৪৯৫টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫০৫টি এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৫৪৫টি।
/এসএনএইচ/