অভিযোগ আছে, প্রকল্প শেষ দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছেন সভাপতি শামীম আহম্মেদ। সেই টাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণ করছেন তিনি। তবে নিজেকে আমরুল ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী ও প্রকল্প সভাপতি শামীম আহম্মেদ এসব অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তার কাজে কোনও অনিয়ম নেই। ভবিষ্যতে ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।’
আমরুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানাউল হক বলেন, ‘বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলতাব আলীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন শামীম আহম্মেদ। ইসলামপুর সরকারপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা সংস্কারের জন্য টিআর বরাদ্দ ছিল এক লাখ টাকা। বরাদ্দের আগে ওই নামে কোনও মাদ্রাসা ছিল না। প্রকল্প সভাপতি শামীম আহম্মেদ তার পৈত্রিক জায়গায় নির্মাণাধীন বাড়িটি মাদ্রাসা দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোবিন্দপুর সরকারপাড়া কবরস্থানের প্রাচীর সংস্কারের টিআর বরাদ্দ ছিল এক লাখ টাকা। এখানে কোনও কবরস্থান নেই। গোবিন্দপুর এবং ইসলামপুর মুলত একই জায়গা হলেও প্রকল্পে ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হয়েছে। গোবিন্দপুর সরকারপাড়া হাসনা আলতাব সমবায় সমিতি ও গ্রন্থাগার নির্মাণে টিআর বরাদ্দ দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। অথচ এ নামে কোনও গ্রন্থাগার নেই। পৈতৃক জায়গায় নির্মাণাধীন ভবনকে গ্রন্থাগার দেখানো হয়েছে।’
এছাড়া সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬ লাখ টাকা। সেখান থেকে প্রকল্পের সভাপতি শামীম আহম্মেদ তার ধনী বাবা আনিছুর রহমান খোকা ও বোন সোহাগী খাতুনের বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন সানাউল হক।
তবে শামীম আহম্মেদ জানান, ‘আমি ভবিষ্যতে আমরুল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো। বর্তমানে তিনি আমরুল ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকার উন্নয়নে এমপি সাহেবের কাছে প্রকল্প নিয়ে অনেক উন্নয়ন কাজ করছেন।
প্রতিপক্ষের লোকজন তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব রটাচ্ছেন।’
শাজাহানপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রকল্পগুলো ছিল সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলতাব আলীর। সময় কম থাকায় কাজগুলো তদারকি করা যায়নি।’
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী শামছুন্নাহার শিউলী মোবাইল ফোনে জানান, ‘শামীম আহম্মেদের কাজগুলোর ব্যাপারে কোনও অভিযোগ পায়নি। এরপরও বিষয়টি সংসদ সদস্যের নজরে আনা হবে।’
/এসএনএইচ/