নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই ১২ জেলেকে কারাদণ্ড

ইলিশ মাছইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরগুনার বলেশ্বর নদীতে ইলিশ শিকার করায় ১২ জেলেকে একমাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ১২ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম এ কারাদণ্ড দেন।

এছাড়াও মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার বিষখালী, বুড়িশ্বর ও বলেশ্বর নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার মিটার জাল ও ১২০ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার করেছে মৎস্য বিভাগ।

দন্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- আল আমীন মাতব্বর (২৬), মালেক মোক্তার (৫০) আসাদুল নাজীর (৪৭), ফিরোজ হাওয়াদার (৪৫), ইসাহাক মাঝি (২৭), নুরু মিয়া (৪৯), আবু বকর হাওলাদার (৪০), রাসেল (১৯), জাকির মুসল্লি (৩০) ও রুবেল শিকদার ওরফে রুহুল আমীন (২০)।

এর আগে ভোরে পাথরঘাটার চরদুয়ানী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বলেশ্বর নদের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি মা ইলিশসহ তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানিয়েছে, বরগুনার প্রধান তিনটি নদী বুড়িশ্বর, বলেশ্বও ও বিষখালীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার মিটার জাল ও ১২০ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। জাল আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া মাছ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে। 

চরদুয়ানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রমজান মিয়া জানান, ‘মা ইলিশ রক্ষায় টহলের সময় বলেশ্বর নদের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে  মা ইলিশ শিকার করায় ১২ জেলেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। এসময় দোষ স্বীকার করায় সবাইকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো ওয়াহিদ্দুজামান জানান, ‘মা ইলিশ রক্ষার জন্য আমার গত রাত ১২টা থেকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে অভিযান শুরু করি। অভিযানে পাথরঘাটার ১২ জেলেকে মাছ ধরা অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদলতে সাজা হয়েছে। এছাড়া নদীতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জাল ও মাছ জব্দ করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।’

/এসএনএইচ/