গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
তিন বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া সিকিপাড়া গ্রামের মৃত তারাপদ দাসের মেয়ে মুক্তি দাসের সাথে কাশিয়ানী উপজেলার কড়িগ্রামের নৃপেন বিশ্বাসের ছেলে পরেশ বিশ্বাসের বিয়ে হয়।
ওই গৃহবধূর মা কণিকা দাস বলেন, বিয়ের পর পরেশ বিশ্বাস গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী সাহাপুর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক পদে আমাদের টাকায় চাকরি নেন। তারপর থেকে পরেশ বিশ্বাস স্ত্রী মুক্তিকে নিয়ে বৌলতলী বাজারের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। কিছুদিন আগেও পরেশ বিশ্বাস জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে মুক্তিকে চাপ দিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। পরবর্তীতে পরেশ বিশ্বাস তার নামে আমাদের আলু চাষের এক বিঘা জমি লিখে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে। এ বিষয় নিয়ে প্রায়ই পরেশ মুক্তিকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আমার মেয়ে প্রতিবাদ করে।
কণিকা দাস আরও বলেন, সোমবার দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিকে গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দেয় তার স্বামী। মঙ্গলবার মুক্তি রাস্তায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে । বিষপানের পর মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তিনি মারা যান। পরে লাশ ফেলে স্বামী পরেশ বিশ্বাস ও তার স্বজনরা পালিয়ে যান। আমার মেয়েকে পরেশ আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। আমি এর বিচার চাই।
বৌলতলী ইউনিয়নের সদস্য চঞ্চল রায় বলেন, পরেশ মাস্টার ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো বলে শুনেছি। সোমবার রাতে পরেশ মাস্টার তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেয়। গভীর রাতে লোকজন এসে আমাকে বিষয়টি জানায়। তাদের নিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করেও মুক্তিকে পাওয়া যায়নি। পরে সকালে জানতে পারি পরেশ মাস্টারের স্ত্রী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। এর কিছু পরেই পরেশ মাস্টার ঘরে তালা লাগিয়ে গা ঢাকা দেয়। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা বলেছেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এইচকে/