ঘুষ দিতে না পারায় গরিবের চালের কার্ড বিত্তবানদের হাতে

নিজের পাকা ভবনের সামনে লুকার বেগম এবং ভাঙা ঘরের সামনে মানিক মণ্ডলগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় মেম্বারের চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিতে না পারায় গরিবের দশ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড বিত্তবানদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য অর্থের বিনিময়ে এসব কার্ড বিত্তবানদের হাতে তুরে দিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হিরন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তারাশী গ্রামের বাসিন্দা আমিনুর তালুকদারের স্ত্রী লুকার বেগম (৩০) হতদরিদ্রদের জন্য দেওয়া দশ টাকা কেজি দরের কার্ড পেয়েছেন। আমিনুর তালুকদার একজন ব্যবসায়ী। তার বাড়িতে দুইতলা পাকা ভবন রয়েছে। এছাড়া আমিনুরের বড় ভাই মিজানুর রহমানও (৪৩) হতদরিদ্রদের কার্ড পেয়ে দু’দফায় চাল উত্তোলন করেছে। তার বাড়িতেও পাকা ভবন রয়েছে।

একই গ্রামের একিন মোল্লার ছেলে খলিল মোল্লা হতদরিদ্রের কার্ড পেয়েছেন। খলিল মোল্লার দুই ছেলে প্রবাসী। তাছাড়া এলাকার ধর্নাঢ্য পরিবারের সন্তান ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম (৫০) হতদরিদ্রের কার্ড পেয়ে দু’দফা চাল উত্তোলন করেছে। শহীদুল ইসলাম মাঝবাড়ি গ্রামের মহম্মদ আলীর ছেলে।

আরও জানান গেছে, বিত্তবানদের কার্ড দেওয়া হলেও তারাশী গ্রামের হতদরিদ্র সুখচাঁন মণ্ডলের ছেলে মানিক মণ্ডল (৩৮), সুনিল পান্ডে (৪০), মৃত্যু নরেন দাসের ছেলে ক্যান্সার আক্রান্ত দশরথ দাস (২৫) দশ টাকা কেজি দরের কার্ড পাননি।

এ বিষয়ে মানিক মণ্ডল বলেন, ‘আমার কাছে মেম্বার মহর আলী পাঁচশ টাকা চেয়েছিল। টাকা না দিতে পারায় মেম্বার আমাকে কার্ড দেয়নি।

আমিনুর তালুকদারের স্ত্রী লুকার বেগম বলেন, ‘মেম্বার মহর আলী আমাদের কাছ থেকে দুইশত টাকা নিয়ে কার্ড দিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মহর আলী হতদরিদ্রের তালিকায় বিত্তবানদের নাম থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি প্রথম যে তালিকাটি করেছিলাম সে তালিকা তৈরি করতে আমার অনেক ভুল হয়েছে। আমি ওই তালিকা সংশোধন করে খাদ্য অফিসে নতুন তালিকা জমা দিয়েছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি হতদরিদ্রের কার্ড দিতে কারও কাছ থেকে কোনও টাকা নেইনি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, ‘হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে ওই ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/এসএনএইচ/