বিএম কলেজের ক্যাম্পাসে সরকারি গাছ কাটলেন অধ্যক্ষ

অধ্যক্ষের নির্দেশে কেটে ফেলা হচ্ছে সরকারি গাছ

বরিশালে বিএম কলেজের ক্যাম্পাসে সরকারি ১০-১২টি মেহগনি, আকাশমনি (ইউক্যালিপটাস)সহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এসব গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ প্রফেসর স. ম. ইমানুল হাকিমের বিরুদ্ধে।

গাছ কাটার ছবি তুলতে গেলে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে অধ্যক্ষ ইমানুল হাকিম সাংবাদিকদের বাধা দেন।

জানা গেছে, বনবিভাগের অনুমতি না নিয়ে, কিংবা কোনও টেন্ডার  ছাড়াই গত শুক্রবার কলেজ বন্ধের দিনে, জুমার নামাজের পরপরই শ্রমিকদের দিয়ে বড় আকারের ওই গাছগুলো কাটা শুরু করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার বিএম কলেজের ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়,জিরো পয়েন্ট এলাকায় অনেক বছরের পুরনো বড় আকৃতির ১০-১২টি মেহগনি ও আকাশমনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে ।

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ‘অধ্যক্ষ স্যার এসব গাছ কাটতে বলেছেন। আমরা কেবল পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাছগুলো কেটেছি। কাটা গাছগুলো দিয়ে কী করা হবে,তা আমাদের জানা নেই। ’

খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে গাছ কাটার তত্ত্বাবধানে থাকা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক বেল্লাল হোসেন দ্রুত সটকে পড়েন । এর পরপরই  ঘটনাস্থলে আসেন কলেজের অধ্যক্ষ স. ম. ইমানুল হাকিম।

সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমার ক্যাম্পাসের গাছ আমি কেটেছি। এ নিয়ে নিউজ হওয়ার কিছু নেই।’

ফটো সাংবাদিকদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি  বলেন,  ‘পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলে নেবেন।’ 

ক্যাম্পাসের উন্নয়নের স্বার্থে ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি ভবনের ক্ষতি হওয়ায় পুরনো ওইসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম।

অধ্যক্ষের নির্দেশে কেটে ফেলা হচ্ছে সরকারি গাছ

বিএম কলেজের সূত্র জানিয়েছে, অধ্যক্ষ ইমানুল হাকিম বন বিভাগ কিংবা পরিবেশ অধিদফতরের কোনও অনুমতি, কিংবা ছাড়পত্র ছাড়াই  কলেজ বন্ধের দিনে নিজ উদ্যোগে ও নিজের প্রয়োজনে গাছগুলো কাটিয়েছেন। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ  ইমানুল হাকিম বলেন, ‘এটা বড় কোনও বিষয় নয়। গাছগুলো ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। তাই এগুলো কেটে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি মাত্র।’

বন সংরক্ষণ অধিদফতর বরিশাল কোস্টাল অঞ্চলের কর্মকর্তা আবু নাসের খান বলেছেন, ‘সরকারি সম্পত্তির কোনও গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে টেন্ডারের মাধ্যমে কাটতে হবে।  এর ব্যতিক্রম হলে সেটা আইনের পরিপন্থী বলে বিবেচিত হবে। ’

তিনি আরও জানান, ‘বিএম কলেজের গাছ কাটার বিষয়ে তারা শুক্রবার পর্যন্ত কোনও চিঠি পাননি, এমনকি সেখানে গাছ কাটার জন্য কাউকে অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ’ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলেও জানান বন বিভাগের ওই কর্মকর্তা।

/এআর/ এপিএইচ/

পড়ুন: প্রাক- প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ