সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী মহানগর ইউনিট কমান্ডার ডা. মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘সরকারি গেজেটের মাধ্যমে সরকারি বেসরকারি স্বায়ত্বশাসিত, আধা স্বায়ত্বশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির ভর্তির সুয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। গত বছরের (২০১৫) ১৭ নভেম্বর রাজশাহী জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুয়োগ দেওয়া জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর আবারও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদন সম্পর্কে নিরাবতা পালন করে।’
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১৭ নভেম্বর মহানগর ও জেলা ইউনিট কমান্ডের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু উপাচার্য এ বিষয়ে কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশ্বাস না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনিদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে অনড় অবস্থান গ্রহণ করছে। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে গভীর ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়। অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের ভর্তি কোটায় সুয়োগ দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী জেলা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার ফরহাদ আলী মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রমাণিক, মোহাম্মদ আলী কামাল, রবিউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক, লুৎফর রহমান, সাইদুল ইসলাম, আবুল বাসার, ইয়াসিন মোল্লা, শাহাদুল হক মাস্টার, আবুল বাসার প্রমুখ।
এ ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে গত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনা করা হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনও প্রজ্ঞাপন সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে না আসায় কাউন্সিল তা অনুমোদন করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি অনুযায়ী আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠিয়েছি যে, যদি কোনও প্রজ্ঞাপন থাকে তবে তা যেন আমাদের দেওয়া হয়। এমন কোনও প্রজ্ঞাপন মন্ত্রণালয় থেকে পেলে আমরা তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবো।’
তবে এই বিষয়ে রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে করা আবেদনে তার একটি কপি সংযুক্ত করে দিয়েছি।’
/এসএনএইচ/